আছিয়া এখন আত্মনির্ভর ও সফল ব্যবসায়ী


আছিয়া এখন আত্মনির্ভর ও সফল ব্যবসায়ী


গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গ্রামবাংলার জীবন সংগ্রামী আলোকিত নারী আছিয়া খাতুন। হতদরিদ্র মাটিকাটা শ্রমিক থেকে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে নিজেকে ও পরিবারকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পাইটকাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র চাষী পরিবারের স্বামী পরিত্যক্ত এক সময়ের অসহায় আছিয়া বেগম এখন তার গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নারীদের কাছে আত্মনির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

দরিদ্র পিতামাতা চিরায়ত অভাবের তাড়নায় ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আছিয়াকে বিয়ে দেয় এক চাষী পরিবারে। এর মধ্যে আছিয়ার গর্ভে আসে সন্তান। স্বামী নুরু মিয়া যৌতুকের দাবি করে আছিয়ার পিতামাতার কাছে। যৌতুকের দাবি পুরণ না করায় তাকে পিতৃগৃহে ফেলে পালিয়ে যায় নুরু মিয়া। এরপর কখনও আর সে স্বামীর দেখা পায়নি।

দরিদ্র পিতৃগৃহে সদ্যপ্রসূত সন্তানকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করেও ভেঙ্গে পড়েননি দৃঢ়চেতা গ্রাম্য এই নারী। একসময় তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কেয়ারের আরএমপি প্রকল্পের আওতায় রাস্তায় মাটি কাটার কাজ শুরু করেন অন্য নারী দলের সঙ্গে। এতে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মজুরি বাবদ তার যে আয় হতো তা দিয়েই তার সুত্রপাত জীবন চলার পথ।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আছিয়াকে। সে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে। আরএমপি প্রকল্পের আওতায় কাজ করে জমানো ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে তিনি শাড়ি, লুঙ্গি ও থান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। ফেরি করে ফেরেন গ্রাম-গ্রামান্তে। এক সময় মাসিক মুনাফা দাঁড়ায় ৪ হাজার টাকা।

২০০৪ সালে বামনডাঙ্গা স্টেশন রোডে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সে বড় আকারে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি কেয়ারের আরএমপি প্রকল্পের আওতায় আছিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পায়। প্রশিক্ষণ শেষে কেয়ারের অপর একটি প্রকল্প গ্রামীণ বিক্রয় কর্মসূচি (আরএসপি) এর আওতায় কমিশনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইউনিলিভার, বাটা ও স্কয়ার কোম্পানির মালামাল বিক্রয়ের সুযোগ পায়। দরিদ্র অসহায় নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতেই মুলত কেয়ার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে পল্লী অঞ্চলে। এই প্রকল্পের জন্য মনোনীত নারীদের আখ্যায়িত করা হয় অপরাজিতা হিসেবে। এ ব্যাপারে আছিয়া বলেন, মনোবল ও চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকলে যে কেউ সাফল্য অর্জন করতে পারে।



>