হারাধন মাইতির ডাকবাক্স


হারাধন মাইতির ডাকবাক্স


চিঠি-১

 

সু,
রাতভর পেঁচার মত দুচোখ ভরে পৃথিবী সব খুজে দেখেছি কোথায় হারিয়ে গেল ফেলে অাসা অামার দুরন্ত কৈশোর, রগরগে যৌবন, পাওয়া না পাওয়ার সালতামামি। হিসেবের খাতায় অসংখ্যবার কাটাকুটি। যেন অানাড়ি তেলেপোকার ইচ্ছের রাজত্ব। স্বর্ণালী ধানের ক্ষেত বিরান। কোথায় উর্বরতা নেই নতুন করে অাবার বীজতলা দিয়ে মাঠের পর মাঠ ঢেকে দেবো সবুজে। সবুজ হলুদে লাল বেনারসী, কলসী কাখে নদীর কুলে। জল কোথায়ও নেই সব নদী শুকিয়ে অস্তিত্ব বিলোপ। প্রবল জলস্রোতের উন্মাদনা নেই। জলের ঝাপটে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় না কোন ধ্যানমগ্ন চিন্তার অাছন্নতাকে।
সু তোকে অামি জানি তুই অতীত নিয়ে বেশী ভাবিস না। সারাদিন যাই ঘটুক তুই বিছিনায় গিয়ে ঘুমের রাজত্বে মহারাজা। সু অামাকে তোর থেকে একটু ঘুম ধার দে না?

চিঠি-২

সকালে তোর চিঠি। তুই অাসছিস কাল ভোরের রুপসা ট্রেন ধরে খুলনায়। তোর কি অাক্কেল বলতো? অামার কি সেই দিন অাছে? উঠল বাই তো কটক যাই।সবে অামি নতুন করে সংসার গুছায়ে নিচ্ছি। ও হা তোকে তো বলা হয়নি। অামি ভাবছি শিঘ্রি একবার কোলকাতা যাব। ইদানিং অাবার ব্যথাটা বেড়েছে। কারন কি জানিনা। সরি! কি লিখতে কি লিখছি। তুই কি একা অাসছিস? নাকি সঙ্গে কেউ থাকবে। জানিসতো অামার ছোট ঘর। কোনভাবে ক’ট্দিন চোখ বুজে মাথা গোজা।এই নিয়েই যত গোলমাল। ঘরের চালায় উঁই পোকায় ঘর বেধেঁছে।একটু বৃষ্টি হলেই ঝর ঝর করে বৃষ্টি নেমে অাসে অাকাশ থেকে সোজা অামার ঘরে। নেহাত থাকতে হয়। না হলে ছেড়ে দিয়ে কোথায় বট তলায় যায়গা নিতুম। ভাবছিস অাবার ভন্ড হলাম কবে থেকে। দেখ অামি কখন সংসারি ছিলাম না। অামি মনে মনে চিরদিন সংসার বিবাগী ছিলাম এখনও অাছি। তুই অাসবি একটু অাধটু বাজার তো করতে হবে। অথচ পকেট গড়ের মাঠ। থাক এসব কথা। তোর নিজের কথা কিছু বল। অবশ্য তুই নিজে থেকে কিছু বলিস নি কখনও। সে যাক চলে অায়। না হয় দুজনে উঁই ধরা ছনের ঘরে বসে জোৎস্না রাতে অাকাশের তারা গুনে রাত কাটাব। অামার বাড়ি তোর নেমতন্ন রইল।
ইতি
হারাধন মাইতি



>