আমাদের ‘টাইগার‘ লোকমান


আমাদের ‘টাইগার‘ লোকমান


আমাদের লোকমান ভাই,‘টাইগার লোকমান’। দেখলে বুঝবার জো নেই যে বয়স তাঁর সত্তর পেরিয়েছে। অসাধারণ সারল্যেভরা মানুষ। শিশুর মত। সামান্য উপলক্ষ পেলেই খলখলিয়ে হেসে উঠেন। বয়সের ব্যবধান দূরে ঠেলে দেখা হলেই অনায়াসে জড়িয়ে ধরতে পারি। হাসি-গল্প মেতে উঠতে পারি।
একসময় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের নায়েক ছিলেন। বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার আশাপুর গ্রামে। স্বাধীনতার পর কখনও হালচাষ করেছেন,ট্রলারের মাঝিগিরি করেছেন,যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন,মাছ বেঁচেছেন। অভাব তাঁর চারপাশ ঘিরে আছে। অকাতরে শ্রম বেঁচেছেন কিন্তু অাত্মসম্মানবোধ আর চেতনা বেঁচেননি একদিন,একটি ঘন্টা,এমনকি একটি সেকেন্ডের জন্যও।
লোকমান ভাই মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী,অসীম সাহসী যোদ্ধা। ২৫মার্চের কালরাত্রির পরদিনই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চাকরী মোহ ত্যাগ করে ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর হরিরামপুরের অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারপর থেকে লড়াই। অসংখ্য গেরিলা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া।
মানিকগঞ্জের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ “গোলাইডাঙ্গার যুদ্ধ”। কমাণ্ডার তবারক হোসেন লুড়ুর নেতৃত্বে লোকমান ভাই আর নবাবগঞ্জের মনসুর ভাই,মূলত এই দুই যোদ্ধার মেশিনগান আর টমিগানের মুখে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে খানসেনা বোঝাই দুটি বড় নৌকা। এই যুদ্ধে নিহত হয়েছিল ৮২জন হানাদার পাকিস্তানী সেনা।
অসীম সাহসী যোদ্ধাকে ভালবেসে সবাই ডাকে টাইগার। টাইগার লোকমান।
লোকমান ভাইর ছেলে এখন চাকুরী করছে,নিজে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন, ওতেই চলে যাচ্ছে চিরকালের টানাটানির জীবন।
তাইবলে লোকমান ভাই বসে নেই। নিজবাড়ির আঙিনায় টিনের একটি ঘড়কে মিউজিয়াম বানিয়েছেন,সংরক্ষণ করছেন মানিকগঞ্জের কয়েকশ মুক্তিযেদ্ধার ছবি। প্রতিমাসেই কোন না কোন স্কুলে যাচ্ছেন,শিক্ষার্থীদের শোনাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প-ইতিহাস।
বিজয়ের মাসে লোকমান ভাইর জন্য অসীম ভালবাসা শ্রদ্ধা।
স্যালুট টাইগার লোকমান।



>