কুড়িগ্রামে কামার শিল্পের দুর্দিন, পেশা বদল করেই চলছে কর্মকাররা


কুড়িগ্রামে কামার শিল্পের দুর্দিন,  পেশা বদল করেই চলছে কর্মকাররা


ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামে কামার শিল্পের দুর্দিন চলছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অব্যাহত ভাবে বাপ-দাদার আদিপেশা বদল করে অন্য পেশায় যাচ্ছে কামার শিল্পীরা। ফলে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে কামার সম্প্রদায়ের লোকজন।
তবে জেলার রাজারহাট উপজেলার সিংয়ের ডাবরী ইউনিয়নের কামার পাড়া গ্রামের উমাচরণ নিক্তি পাল্লা এখনও দেশের নিক্তি পাল্লার বাজার দখল করে রেখেছে। উমাচরণ নিক্তি পাল্লা কারখানার সত্বাধিকারী রবি কর্মকার দেশে নিক্তি পাল্লার চাহিদা মেটাতে দেশের সব জেলায় নিক্তি পাল্লা সরবরাহ এক চাটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তার কারখানায় সবমিলে ১০০ জনের মতো কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন।
রবি কর্মকারের নিক্তি পাল্লার কারখানা নিয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমন ভাল মানের ভাংরী লোহা ২ হাজার টাকা দরে কিনতে হয়। কয়লার দাম ও বেশি। তাছাড়া শ্রমিকের মজুরীর দাম ও বেড়ে গেছে। জন প্রতি শ্রমিকের মজুরী ২৫০ টাকা করে গুনতে হয় তাকে। তবে ডিজিটাল ওয়েট মেশিন এর কারনে আগের তুলুনায় নিক্তি পাল্লার চাহিদাও কমে গেছে বলে তিনি জানান।
কুড়িগ্রাম জেলা সদরসহ ৯ উপজেলায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ বছর আগেও জেলায় প্রায় ৫ হাজার কামার পরিবার লোহার তৈরী সাংসারিক সরনজাম তৈরী করে দিনানিপাত করতো। কিন্তু এখন সে সংখা কমতে কমতে ৫শ তে দারিয়েছে।
বাজারে অব্যাহত লোহার দাম বৃদ্ধি, রেডিমেট সরনজামাদি দাপটে এক সময়ের লাভ জনক ব্যবসা এখন গলার ফাস হয়ে দাড়িয়েছে কামার পরিবার গুলো।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যতিনের হাট বাজারের কামার সুরেশ জানান, তার বয়স এখন ৬০ বছর। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের সাথে এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। আগে এ পেশা দিয়ে সংসার চললেও এখন আর চলছে না। তার ৩ ছেলে প্রথমে এ পেশায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে এ পেশা ছেড়ে ঢাকায় গার্মেন্টস্ এ চাকুরী করছেন। আর একমাত্র তিনিই বাপ-দাদার এ আদি পেশা ধরে রেখেছেন।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর বাজারে খোলা জায়গায় দোকান দিয়ে বসা গজেন্দ্রনাথ জানান, সামনে কোরবানীর ঈদ। প্রতি বছর কোরবানীর ঈদের আগে ছুরি, দা, দাইসহ মাংস কাটার বিভিন্ন উপকরনের চাহিদা একটু বেশি থাকে। তাই বাজারে লোহা ও কয়লার দাম বেশি থাকলেও ধার দেনা করে এসব তৈরি করে বাজারে নিয়ে এসেছি। তবে এখনও বেচা-কেনা আগের মতই আছে। ঈদের দু-একদিনের আগে তৈরি করা সব মাল বেচতে পারবে বলে তিনি জানান।
উলিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জানান, কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে এই উলিপুর উপজেলায় কামার পরিবারের সংখ্যা বেশি ছিল। এখানে প্রায় ১ হাজার পরিবার বসবাস করতো এবং এ পেশা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু কালের পরিবর্তনে মানুষ রেডিমেট জিনিসপত্রের দিকে ঝুকে পড়ায় কর্মকারদের তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দিনে দিনে পেশা বদল করছে কামার পরিবারের সদস্যরা। তবে আমাদের উচিত কামারদের তৈরি জিনিসের ব্যবহার বাড়িয়ে এই সম্প্রদায়ের লোকজনের আদি পেশাকে টিকিয়ে রাখা।



>