দেশী জাতের বীজ বিনিময় নিয়ে ব্যতিক্রমী মেলা


দেশী জাতের বীজ বিনিময় নিয়ে ব্যতিক্রমী মেলা


দেবদাস মজুমদার,আঞ্চলিক প্রতিনিধি,পিরোজপুর ঃ
যথাযথ সুরক্ষা ও আবাদ সম্প্রসারণের অভাবে আমাদের কৃষি ও পরিবেশ থেকে স্থানীয় এলাকা উপযোগি অনেক জাতের ফসল হারিয়ে গেছে। আমাদের কৃষি ব্যবস্থা ঠিক আগের মত না থাকার ফলে বিদেশী জাতের ফসল আবাদে কৃষকের মনোনিবেশ ঘটেছে। এছাড়া কৃষকরে বাজার নির্ভর বীজ সংগ্রহের কারনে স্থানীয় ফসলের বীজ বিলুপ্তি ঘটছে। ফলে আমাদের মাটি,পরিবর্তনশীল আবহাওয়া ও জীবনধারার সাথে মানানসই কৃষিতে দেশীয় জাতের কৃষির আবাদ অনেকটাই কমতির দিকে। এ দেশীয় ফসলের বীজ সুরক্ষা ও এর আবাদ সম্প্রসারণে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের হোতখালী গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় জাতের ধান ও নানা জাতের সবজি বীজ নিয়ে একটি ব্যাতিক্রমী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর মেলায় প্রদর্শিত ফসলের বীজ মেলা শেষে এলাকার কৃষকরা চাহিদা মোতাবেক নিজেদের মধ্যে বিনিময় করেন।
হোতখালী গ্রাম নারী কৃষক উন্নয়ন সংগঠন ও বেসরকারী কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বালাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ই-িজেনাস নলেজ(বারসিক) যৌথভাবে এ বীজ মেলা ও বীজ বিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করে। হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হোতখালী গ্রামের কৃষক মিলন কির্তনীয়া বাড়ির সম্মুখ মাঠে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় এ বীজ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন।
মেলায় স্থানীয় প্রজাতির ১৩৫ ধরনের বীজ প্রদর্শন করা হয় এবং কৃষক- কৃষাণীরা একে অপরের সাথে বীজ বিনিময় করেন। ৩৫ টি স্টলে স্থানীয় প্রজাতির ধান,সবজি ,ফল ও ঔষধি বীজ প্রদর্শণ করা হয়। পড়ন্ত বিকালে কৃষি জমির মাঠে স্থানীয় প্রজাতির এ বীজ মেলায় গ্রামবাসি সমবেত হলে মেলাস্থল কৃষকের মিলন মেলায় পরিনত হয়।
মেলায় স্থানীয় নভাউ ইউপি সদস্য হোসনে আরা হাসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন,ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরষিত চন্দ্র কীর্তুনীয়,সামাজিক উদ্যোক্তা মো. আমীর হোসেন,কৃষাণী পুষ্প রানী কীর্তুনীয়া,কৃষক রতন হাওলাদার,বারসিকের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রমূখ।
সভায় বক্তারা স্থাণীয় জাতের ফসলের বীজ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের নানা কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া সভায় স্থানীয় জাতের ফসল আবাদ সম্প্রসারণে বীজ সংগ্রহে কৃষকের বাজার নির্ভশীলতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় কৃষক রতন হাওলাদার বলেন,দেশী জাতের ফসল আবাদ আমাদের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগি। স্থানীয় জাতের চাষাবাদ করতে কৃষক যাতে সচেতন হয় সে জন্য আমরা বীজ মেলার আয়োজন করেছি। মেলায় প্রদর্শন করা বীজ কৃষকরা মিলে প্রয়োজন মত বিনিময় করছি।
এ ব্যাপারে বেসরকারী কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, কৃষক নিয়ন্ত্রিত কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হোতখালী নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ বীজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জাতের বীজ সম্পর্কে কৃষক কৃষাণীরা পরিচিতি লাভ করছে । এতে কৃষক এলাকা উপযোগী দেশী জাতের ফসল আবাদে উদ্যোগী হবেন এমন আশা থেকেই এ বীজ মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরষিত কির্তনিয়া বলেন,স্থানীয় জাতের বীজ বিনিময় মেলার আয়োজন একটি শুভ উদ্যোগ। এতে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির ফসলের বীজ সংরক্ষণ কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি প্রাণ বাঁচাতে এ মেলা কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।



>