জুয়েল আহমেদের ফ্রেন্ডশীপ স্কুল


জুয়েল আহমেদের ফ্রেন্ডশীপ স্কুল


কে এস রহমান শফি, টাঙ্গাইল :

সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ফ্রেন্ডশীপ স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছেন টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুর হাসান আদর্শ কলেজের ছাত্র জুয়েল আহমেদ। শিশুরা অল্প বয়সে যাতে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ জন্য টাঙ্গাইল শহরের আদি টাঙ্গাইলে নিজের বাসায় স্কুল খুলে শিশুদের গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছেন জুয়েল আহমেদ। গত জুন মাস থেকে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন।

নাদিয়া। বাবা জয়নাল, মা মমিনুর। বাবা মাংসের ব্যবসা করেন। গৃহশিক্ষক রেখে পড়ানোর সামর্থ নেই। তাই এখনে এসে পড়াশুনা করছে।
মনিরা। বাবা মোহাম্মদ আলী, মা শান্তি। বাবা চা-এর দোকান করেন। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা নিচ্ছে। আশেপাশের কেউ বিপদে পড়লে তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। কারো আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে তাদের যতটুকু সম্বব আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে।
এলিম। বাবা লস্কর মিয়া। কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে যা আয় করে তাতে সংসার চালানো কঠিন। এখানে সে বিনা খরচে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে খুবই খুশী।
রাহাত। বাবা মজিদ রিক্সা চালায়। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এখানে ক্লাশ করে।

শুধুমাত্র পাঠ্য পুস্তক নয়। সেই সাথে নৈতিক শিক্ষাও দিচ্ছেন জুয়েল আহমেদ। নিজে অন্য ছাত্রদের প্রাইভেট পড়িয়ে যে আয় হয় সে টাকা দিয়েই বই খাতা ও কলম কিনে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের দিচ্ছেন। সেই সাথে সম্মানী দিয়ে অন্য শিক্ষকদের এনেও তাদের মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছেন শিশুদের।
আশেপাশের এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়ে গড়ে ওঠেছে ফ্রেন্ডশীপ স্কুল। এদের অনেকের বাবা রিক্সা চালান, কেউ দিনমজুরের কাজ করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলেও গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার মতো সামর্থ নেই এ রকম শিশুরাই তার ছাত্র। আজকের শিশুরা সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পর্যায়ক্রমে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ তথা বিশ্ব গড়তে পারে সে জন্য শান্তিপূর্ণ সংগঠন “হিউম্যানিটি ফর পিপলস” নামে মানবাধিকার সংগঠণ করেছেন। জুয়েল আহমেদের মতো সব শিক্ষার্থীরা শিশুদের শিক্ষায় এগিয়ে এলে তারা আরো ভালো ফলাফল করতে পারবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিঞা গত রোববার সন্ধ্যায় ফ্রেন্ডশীপ স্কুল পরিদর্শন করে এটি পরিচালনার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন এভাবেই যদি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবহেলিত শিশুদের শিক্ষায় এগিয়ে আসে তাহলে তারা আরো ভালোভাবে শিক্ষা নিতে পারবে। মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তরুণ ইউসুফের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জহিরুল ইসলাম ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এর সাংবাদিক হাবিব খান।



>