কৈশোর কাটছে ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে


কৈশোর কাটছে ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে


কিশোরবয়সীদের মধ‌্যে যারা কম্পিউটার, ট‌্যাবলেট বা মোবাইল ফোনের মত ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে অনেক বেশি সময় কাটায়, তাদের জীবনযাপনের ধরনের সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতার যোগ খুঁজতে গিয়ে আশঙ্কাজনক তথ‌্য বেরিয়ে এসেছে এক গবেষণায়।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আসাদুজ্জামান খান ও নিকোলা বার্টন ঢাকার আটটি স্কুলের ৭৫৮ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখতে পেয়েছেন, তাদের ৪৮ শতাংশ দিনে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে চোখ রেখে কাটায়। এই হার স্পেন (৩৫ শতাংশ) বা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে (১৬ শতাংশ) বেশি।

বাংলাদেশি গবেষক ড. আসাদ কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন সায়েন্সেসের সঙ্গে যুক্ত; বার্টন কাজ করছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হিউম্যান মুভমেন্ট অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্সেসে। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিক‌্যাল অ‌্যাক্টিভিটি অ্যান্ড হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, কিশোর-কিশোরীরা যখন খেলাধুলা বা স্বাভাবিক অন‌্যান‌্য কর্মকাণ্ডের বদলে ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে অনেক বেশি সময় কাটায়, দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরনের কারণেই তাদের মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি।

বাংলাদেশে এই প্রবণতা কতটা প্রকট তা বুঝতে ঢাকার আটটি স্কুলের ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৭৫৮ জন শিক্ষার্থীদের ওপর এই জরিপ চালানো হয়, যাদের ৫২ শতাংশ ছিল কিশোরী।

তারা বিনোদনের জন‌্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে কতটা সময় কাটায় জরিপে তা জানতে চেয়েছিলেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে তাদের অন‌্যান‌্য অভ‌্যাসের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়, যেগুলো মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং অন‌্যান‌্য স্বাস্থ‌্য সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের ৭৯ শতাংশ বলেছে, দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় তারা কোনো না কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে চোখ রেখে পার করেন।

এই পরিমাণ অনেকে দেশের চেয়েই বেশি। ভারতে এই হার ৩১ শতাংশ, চীনে ৩৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৬৩ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৬৮ শতাংশ।

আর উত্তরদাতাদের গড় বিবেচনা করলে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন গড়ে অন্তত চার ঘণ্টা সময় কাটায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পর্দায়।

এক্ষেত্রে ছেলেদের স্ক্রিন আসক্তি মেয়েদের তুলনায় বেশি। মেয়েরা যেখানে দিনে গড়ে ৩ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্ক্রিনে চোখ রাখার কথা বলেছে, সেখানে ছেলেরা বলেছে ৪ দশমিক ৩ ঘণ্টার কথা।

যারা স্ক্রিনে অনেক বেশি সময় কাটায়, তাদের জীবন-যাপনের ধরনে আরও কিছু বিষয়ের যোগাযোগ দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা। এর মধ‌্যে রয়েছে গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাওয়া, সপ্তাহে অন্তত তিনবার ফাস্ট ফুড খাওয়া, ঘুমের সমস‌্যা এবং পরিবারের উচ্চ আয়।

ইলেকট্রনিক গেজেটে আসক্তির সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়া ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস‌্যার যোগাযোগ নিয়ে পশ্চিমের দেশগুলোতে বিভিন্ন গবেষণা থাকলেও এশিয়ায় এ বিষয়ে তেমন কাজ হয়নি এর আগে।

আসাদুজ্জামান খান ও নিকোলা বার্টন আশা করছেন, তাদের এই গবেষণার মধ‌্য দিয়ে এশিয়ায় কিশোরবয়সীদের মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভব‌্য কারণগুলো খোঁজা শুরু হল।

কিশোর-তরুণদের ‘বসে বসে’ সময় কাটানোর অভ‌্যাস বদলানোর ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী কৌশল বের করতেও এই গবেষণা সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।



>