আঃ গনি রিকশাচালক- বরগুনা


আঃ গনি রিকশাচালক- বরগুনা


চাচা, কোথায় থাকেন?

থাকি সোনাখালি আমাগো বাড়িতে। আগে থাকতাম ঢাকার রামপুরার একটা বস্তিতে। একটা রুমের মধ্যে কোন রকম চাইর জন গাদাগদি কইরা থাকতাম। ছোট একটা রুম তাও আবার ১৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হইতো। যা ইনকাম তা দিয়া হেই ঘর ভাড়া দিয়া পোষাইতো না। সবকিছুর দাম বাইরা গেছে। কামাই কইরা কূল পাইতাম না। গতর খাইট্যা আর কয় টাকা কামান যায়। আমি তো আর মেশিন না। তাই এহন বাড়িতে আইছি।

আপনার সঙ্গে আর কারা আছে?

আমার বউ, এক পোলা এক মাইয়া লইয়া থাকি। আমার আর এক পোলা আছে, হেইডা ঢাকা থাকে। হেইডায় হেইহানে একটা মিলে কাম করে। আমাগো জিগায় না। দ্যাশে আওয়ার পর হুনি এখন নাকি একটা বিয়াও করছে। আমার কাছে যেইডা আছে হেই আমার লগে গাড়ি চালায়। আর মাইয়াডা ছোড, কেবল ৯ বছর চলতাছে। ওরে স্কুলে ভর্তি কইরা দিছি। মাইয়াডা পড়াশোনায় ভালা। ওরে আমি আল্লায় দিলে শিক্ষিত বানামু।

এখন যা ইনকাম হয় তাতে চলে?

মানুষের চাহিদার শেষ আছে কন? আমার কিন্তু বেশি চাহিদা নাই। সবাইরে লইয়া দুই বেলা দুই মুঠ খাইতে পারলে আমার আর চিন্তা নাই। দুই দিনের দুনিয়া মইরা গেলেই শেষ! আর এই অল্প একটু চাওয়া পূরন করতেই সব শেষ। কিন্তু মাইয়াডার লইগ্যা বেশি চিন্তা হয়। আমি গ্যালে তো অরে আর দ্যাখার কেও থাকবে না। বয়স তো শেষ, সারা জীবন তো খাইটাই গেলাম কিন্তু পোয়া-মাইয়ার লইগ্যা কিছুই করতে পারলাম না। পোলাডায় কইছে, কিছু টেকা কামাইয়া আমারে একটা ছোটখাটো দোকান দিয়া দেবে। আমারে আর গাড়ি চালাইতে দেবেনা।
দেশের অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে?

এ তো আপনারাই ভালো কইতে পারেন! হরতাল, মারামারি, বোমা ফুটানো তো লাইগাই আছে। দ্যাশে আমগো মতো সাধারন মানুষের কোন নিরাপত্তা নাই। পুলিশ ও অহন সন্ত্রাসী গো ভয় পায়। সব সময় দেখবেন ঘটনার পরে আসে।
দেশের এই পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করবেন?

হাসিনা-খালেদা! এরা কেউ কেউরে দেখতে পারে না। মানুষ খুন করাই হইলো হ্যাগো রাজনীতি। আর এগো বিরুদ্ধে কহনও কিছু কওন ও যাইবোনা। কে কখন কি শুইনা আবার ধুমধাম মাইরা দিবো তার ঠিক নাই। এ দেশে মানুষের দরদ করার মতো কোন নেতা নাই। আপনারে ভালো লাগছে বইল্লা এত কথা কইলাম।
ছবি ও সাক্ষৎকার গ্রহন : মোঃ সাইফুল ইসলাম মিরাজ, বরগুনা



>