তিস্তার ভাঙ্গনে বিলিন শংকরদহ গ্রাম


তিস্তার ভাঙ্গনে বিলিন শংকরদহ গ্রাম


রফিকুল ইসলাম রফিক : দু দফা বন্যার পর এবার ভাঙ্গতে শুরু করেছে তিস্তা।  এই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এরই মধ্যে  মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া,কাউনিয়া ও পীরগাছার ২৫টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম। ভাঙ্গনরোধে  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথা জানায় পানি উন্নয়ন বোড।

জানা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গনে পড়ছে লক্ষিটারী ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রামটি। ইতোমধ্যেই বিলীন হয়েগেছে গ্রামটির ৮০-৮৫ ভাগ। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বাপ-দাদার ভিটে মাটি। নদীর বুকে বিলিন হওয়া ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর আর্তনাত বাড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি ভাঙ্গন তীব্র হয়ে প্রায় ৭০০-৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে রাস্তা ও বাড়ীঘরসহ ফসলি জমি অর্ধেক নদীর গভে চলে গেছে।গত একমাসের ব্যবধানে বাড়িঘর চলে গেছে কয়েকশ।দিশেহারা তিস্তা চরঅঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ।আবার নীড় হারানোর আতংক শেষ সম্বলটুকু সরিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ।

মোশাররফ হোসেন বিটু নামে একজন জানান, তিস্তার ভাঙ্গনে রাস্তা ঘরবাড়ি,ফসলি জমি চলে যাচ্ছে। বাকিটুকু গেলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে রংপুর-লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

চরঅঞ্চলের আমেনা বেগম নামে একজন জানান, নদী ভাঙ্গনে বাড়ীঘর তো ভেঙ্গে যাচ্ছে সেই সঙ্গে সংকট পড়েছে খাবারের। আমেনার দাবি কেউ তাকে দেয়নি ত্রান কিংবা টাকা পয়সা।৩ সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে তার দিন চলছে বাড়ী ছেড়ে রাস্তার উপর।

 স্থানীয় লক্ষিটারী ইউনিয়ন,চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদির অভিযোগ নামকাওয়াস্তে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।তারা বলছেন,জরুরি ভিত্তিতে ২০-২৫ হাজার জিওব্যাগ না ফেললে পুরো রাস্তা,বাড়িঘর ও জমি চলে যাবে নদীগর্ভে।বিচ্ছিন্ন হবে রংপুর-লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী,মো:মেহেদী হাসান জানালেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তাগুলো রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।তবে বাড়ীঘর,গ্রামিন রাস্তা ঙেঙ্গে গেলে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কাজ।ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা মন্ত্রণালয়ে তালিকা অনুযায়ী কাজ হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান,ভাঙ্গন এলাকাগুলো রাস্তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের তালিকা করছে স্থানীয় প্রশাসন।সে তালিকা অনুযায়ী তাদের প্রনোদনার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।##



>