স্মৃতির অতলে উত্তরের বরেণ্য ব্যক্তিরা


স্মৃতির অতলে উত্তরের বরেণ্য ব্যক্তিরা


নজরুল মৃধা : উত্তরের বরেণ্য ব্যক্তিরা স্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে। ক্ষণআযু এসব মানুষ একসময় জাতীয় ও আন্তজার্তিক অঙ্গনে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করলেও কালের অনিহার কারনে এসব ব্যক্তিদের নাম এখন আর তেমন একটা উচ্চারিত হয়না। পালিত হয়না এদের জন্ম কিংবা মৃত্যু দিবস। অথচ এসব কীর্তিমান মানব এ দেশের সামাজিক,রাজনৈতিক, সংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।সিরাজগঞ্জের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, ক্যাপ্টেন মনছুর আলী, রাজশাহীর কামরুজ্জান,রংপুরের কমরেডমনিকৃষ্ণ সেন ,জিতেন দত্ত, মতিয়ার চৌধুরী, শংকর বসু,বিচারপতি সায়েম,জেরারেল মোস্তাফিজজুর রহমান, দিনাজপুরের হাজি দানেশ,গাইবান্ধার আবুল হোসেন সরকার, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী ,নীলফামারীর মসিউর রহমান যাদু মিয়াসহ শতশত কৃতি মানুষ এক সময় দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে উৎর্সগ করেছেন। অথচ তাদেরকে আমরা ভুলে যেতে বসেছি।
রংপুরের কবি হেয়াত মামুদ প্রথিতযশা এই কবির জন্ম রংপুর জেলাধীন পীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লী ঝাড়বিশলা গ্রামে। কবির জন্ম সময় সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় কবির উক্তি, কাব্যের আনুষঙ্গিক বিষয় ও বংশধরদের প্রচলিত ধারণা ইত্যাদি বিচার করে ১৬৮০ হতে ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোন একসময়ে কবির জন্ম বলে অনুমান করা হয়। বেগম রোকেয়া ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের সম্ভান্ত ভূস্বামী ছিলেন ৯ ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন । এই মহয়সীর শুধু জন্ম মৃত্যু দিন পালিত হলেও সারা বছর আর কোন খোজ থাকেনা। মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরি ঘুমিয়ে আছে রংপুরের মাটিতে। রাজা রামমোহন রায় ছিলেন অবিভক্ত বাংলার নবজাগরনের অগ্রদূত। তিনি একসময়ে রংপুর কালেক্টরেটে কর্মরত ছিলেন। এই মনীষী ১৮৩৩ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল শহরে ইহলোক ত্যাগ করেন।বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ এর স্বামী। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ০৯ মে তিনি ইন্তেকাল করেন। এছাড়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আবু সাতাদ মোহাম্মদ সায়েম, রাজনীতিবিদ কাদের কাজী, মাহতাব খান, মতিয়ার রহমান চৌধুরী, ইতিহাস খ্যাত বিট্রিশ বিরোধী অন্দোলনের অন্যতম নেত্রী দেবী চৌধুরানী, ভবানী পাঠক, আলীদাদ মাহমুদ, কামাল উদ্দিন বাহার উদ্দিন, কমরেড মনিকৃষ্ণ সিং, শংকর বসু, জেনারেল মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানবীর বিক্রম,ভাওয়াইয়া স¤্রাট অব্বাছ উদ্দিন, খেরাজ আলী,সাংবাদিক আখতার উল আলমসহঅসংখ্যগুনি মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু তাদের নাম উচ্চারণ খুব একটা হয়না।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ধানগড়ায় ১৮৮০ সালে জন্ম নেয়া মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কথা এ অঞ্চলের মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। সারা জীবন এই মহান পুরুষ জনগনের কল্যানে নিজেকে উৎর্সগ করে ১৯৭৬ সালে ইন্তেকাল করেন। তার জন্ম ও মৃত্য দিবস কোন দিক দিয়ে চলে যায় তা অনেকেই বলতে পারে না।আবুল হোসেন সরকার তিনি ১৮৯৫ ইং সালে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন এ দেশের একজন কৃতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং রংপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৫ সালের ৬ জুন পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্য মন্ত্রি নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রি নিযুক্ত হন। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী ১৯০৯ সালের ১৯ অক্টোবর জন্ম গ্রহনকরেন।১৯৫৩সালের ১৭ অক্টোবর তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অবদান চিরস্মরণীয় হলেও তার স্মৃতি আজ বিস্মৃতির পথে।
মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ১৮৫৮ সালে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার আলিয়াবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর পূর্বপুরুষ মোহাম্মদ আজম পারস্যের ইস্পাহান নগরীর বাসিন্দা ছিলেন৷ মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী একজন সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাজশাহীর তথা সারা দেশে সমাজ-জীবনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন৷বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয় নেতা এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান প্রচন্ড শক্তি নিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন৷ শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান রাজশাহীর এক বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান৷ তিনি পরিবারের প্রথম সন্তান ছিলেন৷ দাদি আদর করে তাঁর ডাক নাম রাখেন ‘হেনা’৷ তিনি ১৯২৩ সালে ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন৷ বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের পিতা আব্দুল হামিদ মিয়া রাজশাহীর একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ছিলেন৷ তিনি অবিভক্ত বাংলা ও পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন৷ ৭৫ এর ৩ নভেম্বর রাতে জাতীয় চার নেতা নির্মমভাবে ঢাকা জেলখানার অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ৷ এ নেতার জীবনাচরিত উত্তরাঞ্চলে তেমন ভাবে আলোচিত হচ্ছেনা।
ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের জন্ম ১৮৭০ সালের ১০ ডিসেম্বর, নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার কড়চমারিয়া গ্রামে৷ যদুনাথ সরকার তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বিরল সম্মাননা অর্জন করেছিলেন৷ ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ সরকার তাঁকে নাইটহুড উপাধি এবং যথাক্রমে ১৯৩৬ এবং ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট উপাধী প্রদান করে৷ আচার্য যদুনাথ সরকার ৮৮ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালে ১৯ মে তারিখে কলকাতায় পরলোক গমন করেন৷ উত্তরের আরেকটি আলোচিত নাম রানী ভবানী। রাজা রামকান্তের স্ত্রী ছিলেন রাণী ভবানী৷ তার জন্ম আনুমানিক ১১২২ বাংলা সনে৷ পিতা আত্মারাম চৌধুরী এবং মাতা জয়দূর্গা৷ রাণী ভবানী ১৭৪৮ থেকে ১৮০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৪ বৎসর জমিদারী পরিচালনা করেন৷ দান, ধ্যান, শিক্ষা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসা ও ধর্মীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাণী ভবানী সরকারী কোন খেতাব না পেলেও তাঁর প্রজারা তাঁকে ‘মহারাণী’ নামে আখ্যায়িত করেন৷ এ রানীর নামও কালের অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে।আরেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব কুমার শরৎ কুমার রায়ের জন্ম ১৮৭৬ সালে দিঘাপাতিয়ার (নাটোর) রাজবংশে৷ তখন শরৎকুমার অগ্রজ রাজা প্রমদানাথ রায় প্রদত্ত জমিতে নিজে থেকে ৬৩ হাজার টাকা ব্যযে গৌড়ের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে অপূর্ব শিল্প সুষমামন্ডিত জাদুঘর ভবন নির্মাণ করেন৷ তিনি পিতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘রাজশাহী এসোসিয়েশন’, ‘রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার’, ‘রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি’, ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’, ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনী’, ‘ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ’ প্রভৃতি জনহিতৈষণামূলক প্রতিষ্ঠানে নানাপদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল এই মহান ব্যক্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷
রাজশাহী এসোসিয়েশনের অন্যতম সম্পাদক ছিলেন খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ও ব্যবহারজীবী অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়৷ ৭০ বছর বয়সে এই মহৎ প্রাণ বাঙালি মনীষার মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৯৩০ সালের ১০ ফ্রেব্রুয়ারি৷ নরোত্তম দাস ঠাকুর (দত্ত) ষোড়শ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে রাজশাহীর অদূরবর্তী প্রেমতলীর পদ্মাতীরস্থ গোপালপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন৷ নরোত্তম ভক্তিশ্রাস্ত্র গ্রন্থ ছাড়াও অনেক পদ রচনা করেছেন৷ প্রায় সমস্ত বৈষ্ণব পদসংকলন গ্রন্থে পদকল্পতরু, পদামৃত সমুদ্র, গৌর পদতরঙ্গিনী, বৈষ্ণবপদ সঞ্চয়ন, বৈষ্ণব পদাবলী, মধ্যযুগের বাংলা গীতি কবিতা প্রভৃতিতে নরোত্তমের পদসমূহ সংগৃহীত হয়েছে৷মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার আলিয়াবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী একজন সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাজশাহীর তথা বঙ্গের সমাজ-জীবনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন৷রাজশাহী এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রায় বাহাদুর প্রমথনাথ রায় ছিলেন অন্যতম৷ তিনি ১৮৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন৷ ১৮৭১ সালে তিনি ‘রাজাবাহাদুর’ খেতাব পান ১৮৭৭ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৮৮৩ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন৷সমাজহিতৈষী রাজনীতিবিদ এমাদউদ্দীন আহমদ ১৮৭৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ রাজশাহী জজ কোর্টে আইন ব্যবসায় স্বল্পকালের মধ্যেই অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন৷ তিনি ছিলেন রাজশাহী জেলা বোর্ডের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী পৌরসভার নির্বাচিত প্রথম মুসলমান বেসরকারি চেয়ারম্যান৷ অসাধারণ কর্মদক্ষতা এবং ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯২২ সালে খানবাহাদুর উপাধিতে ভূষিত হন৷ ১৯৩০ সালে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন পরে ডেপুটি স্পিকার এর পদ লাভ করেন৷ ১৯৩৬ সালের ৭ মে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷আহসান উল্লাহ মোল্লা নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার অন্তর্গত জাত আমরুল গ্রামে ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি একজন জমিদার, সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন৷ এই সমাজ সেবক রাজনীতিবিদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে আত্রাইতে তাঁর নামানুসারে স্থাপিত হয় আহসান উল্লাহ মেমোরিয়াল উচচ বিদ্যালয় এবং আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন (আহসানগঞ্জ) ও আত্রাই ডাকঘরের নামকরণ করা হয়েছে৷আবদুল হামিদের জন্ম রাজশাহী শহরের কাদিরগঞ্জে জমিদার হাজি লাল মোহাম্মদ এর পরিবারে৷ তিনি পূর্বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম.এইচ.এম. কামারুজ্জামান ছিলেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র৷ তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ১৯৭৬ সালে৷ কাজী আবদুল মজিদ ১৯০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নাটোর শহরের আলাইপুরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি দু’বার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবে তৈল এলাকায় ১৮৮০ সালে জন্ম গ্রহন করেন রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যরত œমোহাম্মদ নজিবর রহমান। তিনি মারা যান১৯৭৬ সালে। শাহাজাদপুরের আরেক কৃতি মানব গনিত স¤্রাট যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী কামার খন্দে জন্ম গ্রহন করেন ১৮৬০ সালে। তার মৃত্যু হয় ১৯২০ সালে। কৃষকনেতা, লেখক, বাগ্মি ইসমাইল হোসেন সিরাজী জন্ম গ্রহন করেন ১৮৮০ সালে এবং মারা যায় ১৯৩১ সালে। জাতীয় ৪ নেতার এক জন রাজনীতিবিদ শহীদ মোহাম্মদ এম মনসুর আলী, (ক্যাপ্টেন)কাজিপুর কুড়িপাড়ায় ১৯১৯ সালে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭৫ সালে এই নেতাকে জেলাখানার অভ্যন্তরে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া সিরাজগঞ্জের সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ফজলে লোহানী, রাজনীতিবিদ আব্দুল মমিন তালুকদার ,অমূল্যনাথ লাহিড়ী, বাপ্পী লাহিড়ী ,ইশান চন্দ্র রায়, সুচিত্রা সেন,হৈমন্তী শুকলা,লেখক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ ,লেখক, প্রবন্ধকারআবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন, বিজ্ঞান, লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক গোলাম মকসুদ হিলালীর নাম উল্লেখযোগ্য। বগুড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য যেমন সমৃদ্ধশালি তেমনি যুগে যুগে এ অঞ্চলে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জন্ম গ্রহণ করেছেন।হাবিবুর রহমান (বুলু মিঞা) ১৯০৮ সালে জন্ম ৫০ ও ৬০ দশকে তিনি অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, যগোস্লাভিয়া ও বার্মায় রাষ্ট্রদুত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রজিব উদ্দীন তরফদার ১৮৯১ সালে, সারিয়াকান্দি ১৯২২ সালে তিনি প্রজা আন্দোলনের গোড়া পত্তন
করেন এবং বগুড়া জেলা প্রজা সমিতি গঠন করেন। তিনি প্রজা আন্দোলনে ব্যপক ভূমিকা রাখেন।
ফজলুল বারী ১৯২২ সালে শিবগঞ্জে জন্ম গ্রহন করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ পদে মন্ত্রী নিযুক্ত হন। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে হাবিবুর রহমান ভান্ডারি, প্রফুল্ল চাকি, মজিবর রহমান, মামদুদুর রহমান চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, তারেক রহমান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বগুড়াবাসিদের মধ্যে সমাজসেবক হিসেবে যারা স্বমহিমায় ভাস্বর তাদের মধ্যে ডাঃ হাবিবুর রহমান১৮৯৩ সালে গাবতলিতে জন্ম গ্রহন করেন।চিকিৎসা ও সমাজ সেবায় তার ব্যাপক অবদান রয়েছেআব্দুল বারী ,ওয়াজেদ হোসেন তরফদার
আজিজুল হক, কবিরাজ শেখ আব্দুল আজিজ ,এ,কে মুজিবর রহমান ,বেগম মাহমুদা সাদেক ,ডাঃ মফিজ উদ্দিন আহম্মদ, মোহম্মদ ইসাহাক, বিএম ইলিয়াস, সিরাজুল হক , আব্দুল আলীম, আব্দুল হামিদ খান, মাহবুবর রহমান চৌধুরী, মনির উদ্দীন চৌধুরী, এমএম পাইকাড়, গোলাম রববানী সরকার, হাম্মাদ আলী, মোহাম্মদ মুরাদুজ্জামান, আমজাদ হোসেন তালুকদার, শাহ মোজাম্মেল হক, ইছাহাক গোকুলী, বেগম জিয়াউন্নাহার তালুকদার ,কলিম উদ্দীন আহসানর, খান বাহাদুর ইব্রাহিম আব্দুল জোববার, কাবেজ উদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুস সাত্তার তরফদার, নারায়ন দাশ ভৌমিক, আই.এস এম কেরামত আলী, মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, আকবর হোসেন আকন্দ, রইস উদ্দীন আহম্মদ, সুরেশ চন্দ্র নন্দি, একেএম মকবুল হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন খন্দকার, আবেদুর রহমান
অধ্যক্ষ খোদেজা খাতুন, অধ্যাপক এ.কে.এম নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক এ.কে আজাদ,অধ্যাপক আতাউর রহমান, এস.এম খলিলুর রহমান, অধ্যাপিকা ছালেহা খাতুন, ছমির উদ্দীন আহম্মদ, সুজ্জাত আলী, মহসিন আলী দেওয়ান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, হুসনেআরা বেগম, মোজাম্মেল হক তালুকদার প্রমুখ নাম উল্লেখযোগ্য।
কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের মধ্যে কে এম শমসের আলী,এম. শামছুল হক তাজমিলুর রহমান ,রোমেনা আফাজ,নাজিরুল ইসলাম, মোঃ সুফিয়ান, এ বিএম ফজলুর রহমান, এম এ হান্নান, রেজাউল করিম চৌধুরী, সুশীল চন্দ্র নিয়োগী, আমজাদ হোসেন, রিয়াজ উদ্দীন, কে,এম মিছের, আয়েন উদ্দীন কবিরত, ধীরেন্দ্র নাথ ভৌমিক, মোস্তাফিজুর রহমান, মহসিন আলী খান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এরা প্রত্যেকেই সারা জীবন সমাজ উন্নয়নে কাজ করেছেন।লালমনির হাট জেলার রমনীমোহন রায় চৌধুরী,মহিমা রঞ্জন রায় চৌধুরী,কাজী শেখ রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ, কবিশেখ ফজলল করিম,শেখ শাহাদাৎ উল্লাহ বসুনিয়া,কান্তেশ্বর বর্মন,অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়, মাওলানা বজলুর রহমান,সেরাজুল হক,আশরাফ আলী,আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ ,রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ,আজিজুর রহমান,ড. শাফিয়া খাতুন আবিদ আলী, শাহজাহান প্রমুখ।
গাইবান্দা শহর সংলগ্ন কোমরনই গ্রামে ১৮৮০ সালে খাঁন বাহাদুর আব্দুল মজিদ জন্ম গ্রহণ করেন। খাঁন বাহাদুর আব্দুল মজিদ রংপুর জেলা বোর্ড ও লোকাল বোর্ডের সদস্য এবং একজন অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজ আমলে সমগ্র পূর্ব বাংলায় যে কয়জন ‘খাঁন বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হন তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। হামিদ উদ্দিন খাঁ ছিলেন গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ‘খাঁন সাহেব’ উপাধি পরিত্যাগ করেন । টিআইএম নুরুন্নবী চৌধুরী
তিনি ১৮৮৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি এতদাঞ্চলের প্রথম মুসলমান আইসিএস অফিসার ছিলেন। তিনি ছিলেন এদেশের স্বনির্ভর আন্দোলনের প্রবক্তা।
আবু হোসেন সরকার ১৮৯৫ সালে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন এ দেশের একজন কৃতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং রংপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ ইং সালে পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৫ সালের ৬ জুন পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্য মন্ত্রি নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রি নিযুক্ত হন। ১৮৯৫ সালে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলায় জনাব সিরাজউদ্দিন আহম্মেদ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। গাইবান্ধার কৃতি সন্তানদের মধ্যে শাহ্ আব্দুল হামিদ অন্যতম। তিনি ১৯০০ ইং সালে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন। তাঁর নামেই গাইবান্ধা স্টেডিয়াম এর নামকরণ করা হয় ‘‘শাহ্ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম’’।
এছাড়া কবি সাকের মাহমুদ,কবি হরিশ চন্দ্র,শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্,নাজীর মোহাম্মদ সরকার,তুলশী লাহড়ী,দৌলাতুন নেছা খাতুন,শামছুল হক,ছদরউদ্দিন,আবুল হাসান শামসুদ্দিন প্রমুখ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নীলফামারীর কৃষক বিদ্রোহের মহান নেতা নবাব নুরুল উদ্দীন ইংরেজ বেনিয়াদের নিষ্ঠুর শাসন ও তাদের দোসর দেবী সিংহ ও অন্যান্য জমিদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর নেতৃত্বে তৎকালীন কাযিরহাট পরগণা থেকে ক্রমান্বয়ে সমস্ত ভারতীয় উপমহাদেশে কৃষক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।খয়রাত হোসেন ১৯০৯ সালে ১৪ নভেম্বর নীলফামারী জেলার সোনারায় ইউনিয়নের বেড়াকুঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সনে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের প্রথম মুসলিম ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৪৪ সালে নীলফামারী অঞ্চল থেকে এম এল এ নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদের খাদ্য, মৎস ও পশুপালন মন্ত্রী হিসেবে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করেন। নীলফামারীতাঁর স্মৃতি আজও বহন করছে।
এছাড়াও সমাজ উন্নয়নে কাজ করেছেন দবির উদ্দিন আহমেদ,ডাঃ জিকরুল হক ,বেগম লুৎফুন্নেছা আববাস ,হরলাল রায় ,মহেশ চন্দ্র রায়প্রমুখ।ঠাকুরগাওএবং পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ,কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ,মির্জা গোলাম হাফিজ,চিত্র নায়ক রহমান, সুবেদার আহমেদ হোসেন,মুহম্মদ দবিরুল ইসলাম, মির্জা রুহুল আমিন,আলহাজ নূরুল হক চৌধুরী,আবু মোজাফ্ফর ইবনে জাহিদ মোহাম্মদ ইউসুফ, হাজী কমরুল হুদা চৌধুরী,খোরশেদ আলী আহমদ,আব্দুর রশিদ মিঞা,মো: ফজলুল করিম,সৈয়দা জাহানারা,ইঞ্জিনিয়ার ইজাব উদ্দিন আহমেদ,মাওলানা হাফিজ উদ্দীন আহমদের কথা এখনো বয়স্কদের মুখে মুখে ফিরে চলে। দিনাজপুরের আলহাজ্ব মোহাম্মদ তৈমুর,স্বভাব কবি মোঃ নূরুল আমিন,পন্ডিত মহেশচন্দ্র তর্কচুড়ামনি,জেহের উদ্দিন মোক্তার,পীর শাহ সুফি মতলুব মিয়া,খাঁন বাহাদুর মাহতাব উদ্দিন আহমদ,শ্রী মাধব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,মাওলানা আয়েন উদ্দিন আহমদ,ডাঃ সুকুমার সেন গুপ্ত,অধ্যাপক আব্দুল বাকী, শ্রী প্রেমহরি বর্মন,জয়নব রহিম,ডাঃ হাজী মফিজউদ্দিন আহমদ,কবি নূর মোহাম্মদ, মির্জা কাদের বকস্,গোলাম রববানী আহমেদ,চারণ কবি আমিরুদ্দিন সরকারঃ ডাঃ আনোয়ারা খাতুনঃ ডাক্তার নইমউদ্দিন আহমদ,লায়লা সামাদঃ
সুসাহিত্যিক আমিনুল হক (খাঁন বাহাদুর),হাসান আলী,ফুটবলের যাদুকর সামাদ,আলহাজ্ব হেমায়ের আলী টি.কে,মহর্ষি ভুবন মোহন কর,তাজউদ্দিন আহমদ,সেরাজউদ্দিন চৌধুরী,ইয়াসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী,হাজী আব্দুর রউফ,ডক্টর গোবিন্দ চন্দ্র দেব,ফজলে হক,দুর্গামোহন রায়,আফতাবউদ্দিন চৌধুরী,গুরুদাশ তালুকদার,স্বদেশী শ্রী মাধব চন্দ্র রায়,হাজী মোহাম্মদ দানেশ,ডক্টর আফতাব আহম্মদ রহমানী,মাওলানা জহির উদ্দিন নূরী,ডাঃ ওয়াসিমুদ্দিন খাঁন,খতিব উদ্দিন আহমেদ,এস এ বারী,এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান,এ্যাডভোকেট গোলাম রহমান,অধ্যাপক ইউসুফ আলী, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন খাঁ,মইন উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী,শহীদ সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা,শহীদ মেজর মাহবুব (বীর উত্তম),খাঁন বাহাদুর একিনউদ্দিন আহমদ,ডা: আব্দুল কাদের চৌধুরী,ড: মফিজ উদ্দীন,শহীদ মুজিবর রহমান (এমএনএ),শহীদ ডা: আবুল কাশেমকবি আতাউর রহমান,অধ্যক্ষ মহসীন আলী দেওয়ানএ,কে আব্দুল আজিজ সহ অসংখ্য গুণি মানুষ দেশকে করেছে আলোকিত। আমরা তাদের মনে রাখতে চাই আজ, আগামীকাল এবং অনন্তকাল।



>