নওগাঁর হিন্দুবাঘা মেলা


নওগাঁর হিন্দুবাঘা মেলা


মেলা বাংলার আবহমান সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।বাংলাদেশে এক সময় সব অঞ্চলে মেলা বসত।আনন্দ-উৎসবে ভরে উঠতো জনপদ।নানা কারনে হারাতে বসেছে মেলা।কিন্তু নওগাঁর হিন্দুবাঘা মেলা এখনো ঠিকে তার নিজস্ব স্বকীয়তায়। লিখেছেন নওগাঁ প্রতিনিধি ফরিদুল করিম।

নওগাঁর হিন্দুবাঘা মেলার বয়স কেউ বলেন ১২৫ কেউ বলেন দেড়’শ বছর। নওগাঁ শহর থেকে ১৭ কিঃ মিঃ দূরে নওগাঁ-রাজশাহী সড়কের পাশে ভীমপুর ইউনিয়নে হিন্দুবাঘা মেলা প্রতি বছর ভীম একাদশী থেকে শুরু হয়ে পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে। তা তিথি ফেরে মাঘ মাসে কোন কোন সময় ফাল্গুন মাসেও হয়ে থাকে। আস্ত একটি গাছের গুলে আগুন জ্বালিয়ে শুরু হয় পুঁজা ও মেলার কর্মকান্ড। চলে ১৫ দিন। হিন্দুবাঘায় আছে ভুতনাথ ধাম নামের এক প্রাচীন মন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরে মেলার শুরু। বিভিন্ন মনোবাসনা নিয়ে মেলার শুরুর দিন থেকেই হিন্দু ভক্তরা আসেন মন্দিরে পুঁজা দিতে। আর মেলায় আসেন সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ। হয়ে যায় মিলন মেলা। মেলায় যেমন আসে সাধারন মানুষ তেমই আসেন সাধু সন্নাসীরা। ধামের পার্শ্বে বট-পাকুরের তলায় সাধু- সন্নাসী বসান গাঁজার আসর। কুন্ডলী পাকায় সে ধোঁয়া। বন্ধ্যা মহিলারা সন্তান বাসনায় আঁচল বিছিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন বেল গাছের তলায়। আঁচলে টুপ করে একটি পাতা ঝরে পড়লে সে পাতা জলে ডুবিয়ে সেই জল পান করলেই সন্তান সম্ভবা হওয়ার আশা থাকে। এমন কথা প্রচলিত  আছে। তবে সেটা নিদৃষ্ট সময়ে। মেলায় বসে রকমারী পসরা নিয়ে নানান দোকান। দুর দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে হিন্দুবাঘা মেলায়।



>