স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়া


স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়া


সৌমিত্র শীল চন্দন : জবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে রবিউল ইসলাম রঞ্জু নামের এক তরুণ গড়ে তুলেছেন সাপের খামার। খামারটি প্রতিষ্ঠিত করে সাপের বিষ অবমুক্ত করে তা বিদেশে রফতানী করা ছাড়াও তার স্বপ্ন অনেক বড়। ইতিমধ্যে প্রশংসা সনদ পেয়েছেন তিনি। এলাকার সংসদ সদস্যসহ অনেকে তার খামার পরিদর্শণ করেছেন। দিয়েছেন বাহবাও।

খামারের উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম রঞ্জু জানান, ডিসকভারী ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে সাপের তথ্যচিত্র দেখে সাপের খামার করার স্বপ্ন দেখেন। ইন্টারনেটে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যোগাড় করতে শুরু করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক ছাত্রের গড়া সাপের খামার দেখে সাপ সংরক্ষণ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় তার নিজের ৮৩ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলেন সাপের খামার। তখন ঢাকার সাভারে সাপের হাট থেকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আনেন ৩৫টি সাপ। কিন্তু বিধি বাম! সাপগুলো অল্প ক‘দিন পরেই মারা যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, সাপুড়েরা সাপের বিষ দাঁত ভেঙে ফেলে ও বিষের থলে ছিদ্র করে দেয়। যে কারণে সাপ খাবার খেতে পারেনা। তাই বেশি দিন বাঁচতেও পারেনা। এরপর হাট মাঠ ঘাট থেকে তিনি সাপ ধরা শুরু করলেন। তার সাথে যোগ দেয় আরও কয়েক তরুণ। এখন পর্যন্ত ছোট বড় মিলিয়ে তিন প্রকারের গোখরা ও দুই প্রকারের দাড়াশসহ ৩২টি সাপ সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা। সাপগুলোর খাবার হিসেবে দেয়া হয় মুরগীর বাচ্চা ও ইঁদুর। সাপগুলো তারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করছেন। এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাপের খামারটিতে কাজ করছে আটজন শ্রমিক। তাদের মূল লক্ষ্য সাপের বিষ অবমুক্ত করে দেশের ওষুধ কারখানা ও বিদেশে রফতানী করা। এতে করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন যেমন হবে তেমনি সাপের চাষ করলে পৃথিবীর ভারসাম্যও রক্ষা হবে। পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

সাপের বিষের একরকম প্রোটিন রয়েছে যা ক্যান্সার চিকিৎসায় যথাযথ ভূমিকা পালন করে। তবে, সাপের বিষ অবমুক্ত করণের জন্য এখনও তারা অনুমোদন পায়নি। অনুমোদন পেলে তাদের এই খামারটি একদিন বৃহৎ পরিসরে প্রতিষ্ঠিত হবে। রঞ্জু জানালেন, এ পর্যন্ত তিনি এ খামারে ১০ লক্ষ টাকার মত বিনিয়োগ করেছেন। পরিবারের সকলে প্রথম দিকে অমত করলেও এখন অনেকেই তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। অনুমোদন পেলে তার শ্রম ও স্বপ্ন স্বার্থক হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তার এ স্বপ্ন পূরণ হলে ইচ্ছে আছে কুমিরের খামার গড়ে তোলা। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাপের খামার দেখতে প্রতিদিনই আসছেন মানুষ। তারাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনই একজন রাশেদুল। এসেছেন পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে খামার দেখতে। জানালেন, আশে পাশের এলাকায় সাপের খামারের খ্যাতি ছড়িয়ে গেছে। এখন আর কেউ সাপ দেখলে ওঝাকে খবর দেয়না। কিছুদিন আগে এক বাড়িতে সাপের কামড়ে দুটি ছাগল মারা যায়। গৃহকর্তা ওঝা ডেকে আনেন। ওঝা ‘কড়ি চালান’ দিয়ে জানান সাপ নেই। পরে খামারের এই তরুণেরা গিয়ে সেই বাড়ি থেকে সাপ বের করেন।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এ খামার তৈরিতে বিশেষ উৎসাহ দিয়েছে। খামারটি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। গোখরা সাপ দিয়ে তারা এটি শুরু করে। এখান থেকে বিষ উৎপাদন করে বিদেশে রফতানী করা যাবে। আবার সাপের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হবে।



>