শঙ্খ, নাকি সাঙ্গু নদী ?


শঙ্খ, নাকি সাঙ্গু নদী ?


শেখ রোকন : আমার সঙ্গে পরিবেশ বিষয়ক আলাপ করতে এসে অনেকে হোঁচট খান। যদি বলেন, নদী হচ্ছে আমাদের পরিবেশের অংশ। আমি তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করি; না, পরিবেশই আমাদের নদীব্যবস্থার অংশ। বাংলাদেশ শুধু নয়, যে কোনো ব-দ্বীপে নদ-নদীই হচ্ছে প্রতিবেশ ব্যবস্থার ‘ফ্লাগশিপ’।

যদি এই গ্রহের হিসাবে ধরি, ধরিত্রী যদি জীবজগতের মা হয়, নদী হচ্ছে ধাত্রী। বন, ভূমি, পাহাড়, সাগরের ভালো থাকা নির্ভর করে নদীর ওপর। কথা গুলো বলছি, বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের প্রজাতিগুলো রক্ষা করতে হবে’। কে না জানে যে, ডাঙার তুলনায় পানিই জীববৈচিত্র্যে বেশি সমৃদ্ধ। আর, নদী হচ্ছে ভূলোক, দূলোক, গোলকভেদা পানিচক্রের প্রধান সূত্রধর। নদী না রক্ষা করে ধরিত্রী রক্ষা করবেন কীভাবে?

যেমন শঙ্খ নদীর এই আলোকচিত্রে স্পষ্ট, নদী কীভাবে বন, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্যকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। নদীর পাশে অনেক ছবিই তো উঠি, এটি আমার প্রিয় ফ্রেমগুলোর একটি।

প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি কথা বলতে চাই- আগের তুলনায় কমেছে; কিন্তু এখনো অনেকে নদীটিকে ‘সাঙ্গু’ বলেন। তাদের দোষ নেই; কারণ নদীটির এই নামই আপাতসিদ্ধ। কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি, আধা-সরকারি সব কাগজপত্রে, মানচিত্রে নদীটির নাম সাঙ্গুই লেখা। আদতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চমৎকার নদীটির আদি নাম ‘শঙ্খ’। ইংরেজ সার্ভেয়াররা তাদের উচ্চারণগত ব্যর্থতার জন্য নাম দিয়েছিল ‘সাঙ্গু’। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্ধুদের অন্তত একজন বলেছেন, স্থানীয় নামই ‘সাঙ্গু’। বাঙালিরা ‘শঙ্খ’ বল। আমি এর সপক্ষে কোনো নথিপত্র এখনো পাইনি।

যতদূর জানা যায়, ১৮৬০ সালের গেজেটিয়ারে প্রথম নদীটির নাম ‘সাঙ্গু’ লেখা হয়। আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড যদিও ইংরেজদের দেওয়া নাম কপি-পেস্ট করে যাচ্ছে; অধিকাংশ স্থানীয়র কাছে এখনও ‘শঙ্খ’ই সই। শুনেছি মারমা জনগোষ্ঠী নদীটিকে ডাকে ‘রেগ্রীই’ বলে। রিভারাইন পিপলর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তাদের অনিয়মিত মুখপত্রটির নামও দিয়েছে ‘শঙ্খ’।
নদীপ্রেমিক বন্ধুরা, আমরা কি পারি না নদীটিকে আদি নাম ফিরিয়ে দিতে ?

লেখক : সাংবাদিক
ও নদী গবেষক



>