`লালন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক’


`লালন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক’


শেকড় প্রতিবেদন :  লালন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, জনপ্রিয় ও আধুনিক। তাঁর গান বাউলসমাজের সাধনার উপকরণ হিসেবে যেমন বিবেচিত, তেমনি সংগীতরসিকের মরমি চিত্তকেও আলোড়িত করতে সক্ষম। পাশাপাশি সমাজভাবনার অনুষঙ্গ হিসেবেও তা মূল্যবান।

ফকির লালন সাঁইজির ১৩০তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

 ১৬ ও ১৭ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সাধুমেলা ২০২০ আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় ১৬ অক্টোবর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে ‘বিশ্বমানবতার মুক্তিতে লালন দর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের নয়াদিল্লির কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মুচকুন্দ দুবে। অনলাইনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফ্রান্সের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেরিমি কদ্রন ও ফ্রান্সের লালন গবেষক কার্লোস সেমিদো। এ ছাড়া ‘বাউলসংগীত সংরক্ষণ ও বিকাশ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ইউনেসকো বাংলাদেশের জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. সোহেল ইমাম খান এবং ‘লালনের সমাজভাবনা ও বিশ্বমানবতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন আবুল আহসান চৌধুরী।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লালন সমাজে প্রচলিত ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও জাতপাতের বিরুদ্ধে তাঁর মানবধর্মের মতবাদ প্রচার করেছিলেন গানের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তাঁর সেই অহিংস মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে সমাজের সাধারণ মানুষ শিষ্যত্ব নেন লালনের। তাঁর মাধ্যমে শুরু হয় নতুন এক মানবধর্মের চর্চা। জাত-পাতহীন, ধর্ম-বর্ণহীন সমাজের কথাগুলো লালনের গানের মূল কথা হওয়ায় মানুষ তাঁর গানের মাধ্যমে মানবমুক্তির আশ্রয় খুঁজে পায়।’

অনুষ্ঠানে লালনের গান পরিবেশন করেন ফকির নহির শাহ্, ফরিদা পারভীন, সমির বাউল, যুক্তরাষ্ট্রের কিথ ই কান্ত ও ফ্রান্সের দেবরা জান্নাত। সন্ধ্যা ছয়টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে শিল্পীদের অংশগ্রহণে বাউলগান অনুষ্ঠিত হয়।



>