দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলে মানবাধিকারের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি, সেমিনারে অভিমত


দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলে মানবাধিকারের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি, সেমিনারে অভিমত


 

গণবার্তা প্রতিবেদন

দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু মানবাধিকার পরিস্থিতির সন্তোষজনক অগ্রগতি ঘটে নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপনে উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ভয়েস ঢাকাস্থ এনজিও ব্যুরো মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ এবং  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মোঃ রাশেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন সাংবাদিক সেলিম সামাদ, পেন ইন্টারনাশনাল বাংলাদেশের সেকেটারি জেনারেল ড. সৈয়দা আইরিন জামান, ব্রাক বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার, নারী অধিকার কর্মী মুশফিকা লাইজু প্রমুখ। স্ব্ড়ত বক্তব্য রাখেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান ভয়েস এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ

পিকেএসএফএর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে, যা নিরসনে সরকারের আরো জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। প্রধান অতিথি মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বিভিন্ন দেশ একযোগে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য, তাদেরকে নিজ দেশে পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

আলোচনায় বক্তারা দেশেরঅর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ  করেন। আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েসের গবেষণা সহযোগী আফতাব খান শাওন। তিনি বলেন, মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি রয়েছে আশ্রয় পাওয়ার অধিকার, শোষণ বঞ্চনা ও নির্যাতন থেকে মুক্তির অধিকার, বাক স্বাধীনতার অধিকার এবং শিক্ষারঅধিকার।

সেলিম সামাদ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে অপরিহার্য মানবাধিকার।  কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উপরে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বলয় ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। সমাজ থেকে আমাদের মানবাধিকার লংঘনের সূত্রপাত। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই সমাজ থেকে সকল অনধিকার চর্চা, অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার দূর করে সমধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে।

মুশফিকা লাইজু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে করোনা সময়ে। মানুষের মূল্যবোধের পাশাপাশি  কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা নিরসনসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব। তিনি সরকারকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহবান করেন।

ড. আইরিন জামান বলেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই সমাজ থেকে সকল অনধিকার চর্চা, অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার দূর করে সমধিকার স্থাপন করতে হবে।এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে।

সাইমুন রেজা তালুকদার বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্টের এবং নাগরিকের অধিকার কোনভাবেই খর্ব করা যাবেনা। দেশের অর্থনীতি, বাজেটব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাক্ষেত্র ইত্যাদি সকল বিষয়ে একজন নাগরিককে অবগত থাকতে হবে। এবং নাগরিকেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরো বক্তব্য রাখেন দলিত শ্রেণীর প্র্রতিনিধি মনি রাণী দাস, নাগরিক উদোগের নাদিরা পারভীন, সংগঠক বদরুল আলম, সুমনা মাসুদ প্রমুখ।



>