ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার আইন লঙ্ঘন করছে বিএটিবি


ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার আইন লঙ্ঘন করছে বিএটিবি


গণবার্তা প্রতিবেদন

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) পৃষ্ঠপোষকতায় গত  ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘ব্যাটল অব মাইন্ডস’ (বিওএম) ২০২০ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাটল অফ মাইন্ডসের মতো স্পনসরশিপ ইভেন্টের মাধ্যমে বিএটিবি যুবসমাজকে ধোঁয়াশার ফাঁদে ফেলে মৃত্যুর বিপণন করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। অধিকন্তু, এ ধরনের কর্মসূচি ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ৫-ধারা লঙ্ঘন করছে,  এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল’-এর ধারা ৫.৩-এর পরিপন্থি। উল্লেখ্য, এই জাতীয় অনুষ্ঠানে তামাক কোম্পানি নীতিনির্ধারকদেরও ব্যবহার করছে। বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন হিসাবে, ভয়েসেস ফর ইন্টার‍্যাক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে কাজ করে এবং মৃত্যু বিপণন বাজারিকরণ থেকে সরে আসার জন্য আহবান জানায়।

একই সঙ্গে, বিএটিবির হস্তক্ষেপ এবং আইন-ভঙ্গকারী মনোভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এবং এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলির বিরুদ্ধে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম ও বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা লঙ্ঘনের নামান্তর। কেননা প্রতি বছর রাজস্ব আয়ের বিপরীতে সরকারের বিভিন্ন তামাকজাত অসুস্থতাজনিত কারনে ব্যায় হয়

ভয়েস নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, “বিভিন্ন প্রকার সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে তামাকজাত কোম্পানিগুলি তাদের প্রচার চালাচ্ছে, যা সুস্পষ্ট ভাবে আইনের লঙ্ঘন করছে। আমি আমাদের দেশের আইন প্রণেতাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তাঁরা যাতে এইসকল বিষয়গুলিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করে এবং তামাকজাত কোম্পানির প্রচার ও প্রসারের বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”

ধূমপান এবং তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ এর ধারা ৫.১ এর তামাক প্রচার বা বিজ্ঞাপনের জন্য সমস্ত ধরণের স্পনসর বা পুরষ্কার নিষিদ্ধ। এমনকি তামাক সংস্থার নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক বা সামাজিক ক্রিয়াকলাপের জন্য লোগো ব্যবহার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত আইন অমান্য করেই চলছে।

বিএটিবি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ করছে, আইন লঙ্ঘন করছে এবং তাদের প্রচারমূলক উদ্দেশ্যে বিওএম ব্যবহার করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে রোডশো, স্টার হোটেলগুলিতে ইভেন্ট করা, ব্যানার ও ফেস্টুন ক্যাম্পেইন, এবং অন্যান্য বিনোদনমূলক ক্রিয়াকলাপের মতো প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা তরুণদেরকে ব্যবহার করে প্রচারণা করছে এবং নীতিনির্ধারকদেরও প্রভাবিত করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।



>