বিএটিবির অনলাইন বিজ্ঞাপন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন করছে




ভয়েস আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে বক্তারা সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান

বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে বক্তারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট buyherenow.com.bd-তে প্রদর্শিত তামাক বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাক সংস্থাগুলির সিএসআর প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ভয়েসেস ফর ইন্টারেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) আজ সকালে রাজধানীর ভয়েস সিভিক সেন্টারে “মালপ্র্যাক্টিসেস অফ টোব্যাকো কোম্পানিজ ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ।  অনুষ্ঠানটিতে বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, নাদিরা কিরণ, সহ-আহ্বায়ক, এটিএমএ, এমএ সালাম, অনুদান ব্যবস্থাপক, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, আহসানিয়া মিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শারমিন রহমান সহ অন্যান্যরা।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনায়, বেনসন এন্ড হেজেস-এর পপ-আপ বিজ্ঞাপনের কথা বলা হয় যা  buyherenow.com.bd-তে প্রদর্শিত হচ্ছে । বাংলাদেশের ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ওয়েবসাইটগুলি সহ যে কোনও উপায়ে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন বা প্রচার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করেছে। অনলাইনে তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে কোনও বিধিনিষেধ না থাকলেও এধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন করে। এছাড়াও, ওয়েবসাইট ব্র্যান্ডিং এর বেনসন এবং হেজেস ব্র্যান্ডের রঙ রয়েছে, যা ওয়েবসাইটটি বিএটিবির সরাসরি জড়িত থাকার ব্যাপারে একটি ধারনা দেয়। এছাড়াও তামাক সংস্থাগুলির সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপণন কৌশল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আলোচনাটি।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা করেছেন। তবে, তামাক সংস্থাগুলির সাথে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। একটি নির্দিষ্ট আইন থাকা প্রয়োজন যেন তারা কোন অবস্থাতেই তামাক সংস্থাগুলির সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারে এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে না পারে। আমরা যদি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে না পারি,  তাহলে আমরা এক শতাব্দীতেও বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত জাতি হিসাবে গড়ে তুলতে পারব না।”

এটিএমএর সহ-আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ বলেন, “এখন সময় এসেছে যে আমরা তামাক সংস্থাগুলির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইন চালু করি। তামাক সংস্থাগুলি সরাসরি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে না পারায় তারা বিভিন্ন সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সংস্থা এবং ব্র্যান্ডের প্রচার করছে। আমরা যদি তাদের সিএসআর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে পারি তবে বিপণন বন্ধ হয়ে যাবে।”

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এর যোগাযোগ কর্মকর্তা সরকার শামস বিন শরীফ বলেন, “ই-কমার্স ওয়েবসাইটে দেখানো বিএটিবি-র বিজ্ঞাপন বিদ্যমান আইনের চরম লঙ্ঘন। তামাক সংস্থাগুলি কোনও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলির প্রচার বা বিজ্ঞাপন দিতে পারে না। এছাড়াও তাদের সিএসআর কার্যক্রমের উপর ও আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত। যদি তারা দেশের জনগনের জন্য কিছু করতে চায় তাহলে তারা সরকারের তহবিলে অনুদান দিতে পারে, তবে সে জন্য তারা কোন প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা ছবি দিতে পারবে না।” অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, এনজিও এবং তামাক বিরোধী কর্মীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



>