ভালো নেই ভোলার বনাঞ্চলের হরিন


ভালো নেই ভোলার বনাঞ্চলের হরিন


ছোটন সাহা,ভোলা:
হরিনের আবাসস্থলে খাদ্য, মিঠা পানির সংকট, নির্বিচারে গাছ কাটা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভালো নেই ভোলার বনাঞ্চলের হরিন। চরম অশান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে লোকালয়ে ছুটে আসছে হরিনের দল। ওই হরিন দেখে আবার স্থানীয়রা ধাওয়া করছে। ফলে চারদিকেই বিপদে আছে বনাঞ্চলের সৌন্দেয্যে প্রতিক হরিনের জীবন।
প্রতিনিদিই খাদ্যের খোজে লোকালয়ে আসছে।
বন বিভাগের সুত্র মতে, গত ৭দিনে বন বিভাগ ৭টি হরিন উদ্ধার করলেও এদের মধ্যে একটি হরিন মারা গেছে।
অন্যদিকে লোকালয়ে আসা হরিনরে আগমনকে কেন্দ্র করে চোরা শিকারীরাও তৎপর হয়ে ওঠেছে বলে স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়।
বন বিভাগ জানায়, ভোলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর উড়িল, বদনার চর, সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও চর পাতিলায় রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের পাশাপাশি প্রায় ১৫হাজার হরিন রয়েছে। সেগুলে চিত্রা প্রজাতির।
স্থানীয়রা জানায়, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ থেকে দল বেদে হরিন মনুপরা ও তজুমদ্দিনসহ বিভিন্ন স্থানে ভাসতে ভাসতে লোকালয়ে চলে আসছে। এরমধ্যে কিছু আসছে খাদ্যের সন্ধানে এবং কিছু মিঠা পানির সন্ধানে।
লোকালয়ে হরিনের আসার পিছনে বেশ কয়েকটি কারন উল্লেখ করেছে বন বিভাগ। কারনগুলোর মধ্যে রয়েছে বনদস্যুরা দ্বারা বনের গাছ কেটে সাবার, প্রচন্ড রৌদ্র, বৃষ্টি না হওয়া, বন তুলানায় হরিনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনগত প্রভাব। এ সকল কারনে খুব শিগ্রই বন বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মনপুরা মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহাবুবুল আলম শাহিন বলেন, হঠাৎ করেই লোকালয়ে আসছে শুরু করেছে হরিন। গভীর বনে গিয়েও যে হরিনের দেখা পাওয়া দুস্কর ছিল সে হরিনই এখন মানুষ দেখছে। তবে এদের দেখতে পেয়েই ধরার জন্য তাড়া করছে মানুষ। কিছু চোরা শিকারী আবার তৎপর হয়ে ওঠেছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, জাল পেয়ে ও বন্দুক দিয়ে দিয়ে এক শ্রেনীর শিকারী হরিন শিকারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তারা পুলিশ ও বন বিভাগের চোখের আড়ালে জঙ্গল থেকে হরিন ধরে মাংস ও চামড়া বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এর সাথে কিছু অসাধু জেলে চক্রও রয়েছে।
এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, চোরা শিকারিরা যাতে হরিন শিকার করতে না পারে সে দিকে পুলিশের কঠোর নজরদারী রয়েছে।
এ ব্যপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনে কয়টি হরিন লোকালয়ে এসেছে তার সবগুলোই নিঝুম দ্বিপ থেকে আসা। সেখানে হরিনরে আবাস্থলের তুলনায় হরিনের সংখ্যা অনেকটা বেশী। তাই হরিন বন ছাড়ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এমটি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করছেন। ওই স্থান থেকে কিছু হরিন অন্য বনে ছাড়লে এ সমস্যা কিছুটা কমবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব খোয়াখালীর বন বিভাগের।
চোরা শিকারীরা যাতে হরিন শিকার করতে না পারে সেদিকেও বন বিভাগ তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।



>