বাঙালির ঐতিহ্য জামদানী এখন কুড়িগ্রামে


বাঙালির ঐতিহ্য জামদানী এখন কুড়িগ্রামে


রেশম, সুতা, জরি এবং শিল্পীর হাতের নিপুন ছোঁয়ার মিশ্রণে তৈরি হয় একধরণের কাপড়। নাম জামদানী শাড়ি। প্রাচীন কালের মুসলিম কাপড়ের উত্তারাধিকারী হিসেবে জামদানী শাড়ি বাঙালি নারীদের অতি পরিচিত। জামদানী বলতে শাড়িকেই বোঝানো হয়। সময়ের পরিবর্তনে বাঙালি ইতিহাসকে সাক্ষী রাখা সেই জামদানী শাড়ি দৈনিক ১৬ ঘন্টায় দু’জন শিল্পীর নিপুনতায় ৪ থেকে ৫ দিনে তৈরি হয় এক একটি শাড়ি।
বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য জামদানী এখন তৈরী হচ্ছে কুড়িগ্রামে। যার হাত ধরে কুড়িগ্রামে জামদানীর এই স্বপ্ন যাত্রা, তিনি হলেন ২৭ বছরের যুবক আব্দুল মালেক। তার স্বপ্ন তিনি একদিন কুড়িগ্রামেই গড়ে তুলবেন জামদানী পল্লী। জেলা সদরের বেলগাছা ইউনিয়নে কওলা গ্রামের আব্দুল মালেক ঢাকার কাচপুর এলাকায় জামদানী পল্লীতে কাজ শিখে কুড়িগ্রামে এসে গত ৪ বছর আগে দু’টি তাঁত বা পটি দিয়ে জামদানী বুননের কাজ শুরু করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যে শুরু মালেকের এই স্বপ্ন যাত্রা। এখন তার  তাঁতের সংখ্যা ৬টি। মালেকের দেখাদেখি তার এক নিকট আত্মীয় ৩টি তাঁত দিয়ে আর একটি কারখানায় জামদানী বুননের কাজ শুরু করেছেন।
কুড়িগ্রামের জামদানীর সাথে রুপগঞ্জ ও নরসিংদীর জামদানীর কোন পার্থক্য নেই। মালেকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্থানীয় ১২ জন জামদানী শিল্পী তার কারখানায় প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা মজুরীতে কাজ করে। মালেক জানান, জামদানী বুননের জন্য সূতা, রং ঢাকা থেকেই কিনে আনতে হয়, আবার বিপননের জন্য ঢাকা মুখী হতে হয়। স্থানীয় বাজারে বিপনন সমস্যা, রং-সুতার সংকট সহ নানা মুখি প্রতিকূলতার মধ্যেও আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পুঁজি সমস্যার কারণে আমাকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। কেননা, কাঁচামাল ক্রয় এবং শাড়ি বিক্রি করতে আমাকে প্রায় ঢাকা যেতে হয় এতে যাতায়াত খরচও বেশি হয়। পুঁজি বেশি থাকলে এক সাথে যেমন অতিরিক্ত কাঁচামাল সংগ্রহ করা যেত ও একই খরচে অধিক হারে জামদানী শাড়ি বিপনন করা যেত।  মালেকের এই জামদানী শিল্প গত ৪ বছরে বিসিকের নজরে না আসলেও থামেনি তার কাজের গতি। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক একেএম আসাদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি আমাদের নজরে ছিল না। তবে আপনার মাধ্যমে জানতে পেরে ভাল লাগছে, খুব শীঘ্রই কুড়িগ্রামের জামদানী তৈরির উদ্যোক্তা আব্দুল মালেকের জামদানী কারখানা ঘুরে দেখে সে চাইলে তাকে নক্সা, ডিজাইন সহ ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় সুধী মহল মনে করেন, সরকার সহ সকলের সহযোগিতা পেলে মালেকের স্বপ্ন কুড়িগ্রামেই একদিন গড়ে উঠবে জামদানী পল্ল¬ী।



>