গাজীপুরের সিএলসি লাইব্রেরী




হাসমত আলী,গাজীপুর

গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকা লোহাগাছিয়ায় গড়ে ওঠেছে প্রতাবপুর কমিউনিটি লানিং সেন্টার (সিএলসি) লাইব্রেরী। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে স্থানীয় মোঃ মোতাহার হোসেন মোল্লার উদ্দ্যেগে লাইব্রেরীটি গড়ে ওঠে। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ি, গৃহিনী ও ছাত্ররা। শুরুতে উদ্যোক্তা মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি করে গঠিত ১১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালাতো। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন সহসভাপতি মোছাঃ শিরিন পারভীন(গৃহিনী), সাধারণ সম্পাদক মোঃ আইয়ুব আলী (শিক্ষক), কোষাধ্যক্ষ- আলহাজ আদম আলী(ব্যবসা) এবং সদস্য পারভীন আক্তার (গৃহিনী), পারুল আক্তার (গৃহিনী), রেখা বেগম (গৃহিনী), হামিদা আক্তার (গৃহিনী), একে এম শামসুদ্দিন (শিক্ষক), শিশু সদস্য- ইমরান (ছাত্র) ও মাহফুজা (ছাত্রী)। এদের সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা ।
উদ্যোক্তা মোতাহার হোসেন মোল্লা জানান, এই এলাকাটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোর মধ্যে একটি। শিক্ষায় এ এলাকা বেশ পিছিয়ে পড়ে ছিল। শিক্ষার আলো প্রসারিত হউক সে মনোভাব থেকে তিনি লাইব্রেরিটি গড়ে তুলেছেন। লাইব্রেরি গড়ার সময় সমাজের সবাই সাহায্য সহযোগিতা করেছে। এ সময় কারো বিরুদ্ধ মতামত লক্ষ্য করা যায় নি।
বিশ টাকা ভর্তি ফি দিয়ে যে কেউ এ লাইব্রেরির সদস্য হতে পারেন। প্রতি মাসে ১০টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। তবে এ টাকা অফেরত যোগ্য। সবাই লাইব্রেরিতে বসে বিনে পয়সায় বই পড়তে পারে। সদস্যরা বাড়িতে নিয়েও পড়তে পারেন। তবে  যারা সদস্য নন তারা বই বাড়িতে নিতে চাইলে তাকে বইয়ে সমপরিমান মূল্য ‘সিকিউরিটি মানি’ হিসেবে জমা দিতে হয়। লাইব্রেরিটি সকাল ৯টা থেকে রাত ৮পর্যন্ত খোলা থাকে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা লাইব্রেরিতে পড়ার সুযোগ পায়। বাকি সময় গুলোতে লাইব্রেরির সদস্যরা ও এলাকার লোকজন ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে লাইব্রেরির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাচশ’ টাকা সম্মানী ভাতায় একজন লাইব্রেরিয়ান রাখা হয়েছে। তার নাম ফেরদৌসী আক্তার। বিভিন্ন এনজিও থেকে এবং সদস্যদের চাঁদার টাকায় লাইব্রেরির বই সংগ্রহ ও কেনা হয়ে থাকে।
লাইব্রেরির বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন- সভাপতি-আবু সাঈদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক- মোঃ রাশেদুল আলম, কোষাধ্যক্ষ- মোঃ বাচ্চু মিয়া এবং সদস্য  মোঃ কবির হোসেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হক, রীনা আক্তার, হালিমা আক্তার, পারভীন আক্তার, শিশু সদস্য সাইফুল ইসলাম ও রিজা আক্তার। পরিচালনার কমিটির সবাই অবৈতনিক।
বিভিন্ন এনজিও ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ডের জন্য লাইব্রেরিটি ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। ফলে লাইব্রেরিটিতে লেখাপড়ার বাইরে সেলাই প্রশিক্ষণ, কৃষি বিষয়ক, মাদার কেয়ার এবং প্রতি ৩মাস অন্তর অন্তর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
লাইব্রেরিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সদস্যদের চাঁদা, গ্রামের দানশীল ব্যক্তিদের অনুদান, এনজিও-প্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ঢাকা আহসানিয়া মিশন থেকে অর্থ পাওয়া গিয়েছে। মাত্র ৮/৯ হাজার টাকা নিয়ে এ লাইব্রেরিটি যাত্রা শুরু করে। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ দান বা অনুদান গ্রহণ করেন। তবে পাঠাগারটি পরিচালনার ক্ষেত্রে পুরোপুরি দান বা অনুদান নির্ভর নয়। পাঠাগারের আর্থিক সঙ্গতি বাড়াতে ইতোমধ্যে কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তা হলো ডেকোরেটর ব্যবসা। পাঠাগারের ফান্ড থেকে বেশ কিছু প্লেট, জগ, গ্লাস, কেনা হয়েছে। এগুলো তুলনামূলক কম মূল্যে এলাকায় ভাড়া দেয়া হয়। এতে লাইব্রেরির এবং সমাজের লোক উভয়েই উপকৃত হচ্ছে। তাছাড়া ২টি ভ্যান গাড়ি বানিয়ে স্বল্প লাভে এলাকার গরীব কাউকে দেয়ার এবং পাশে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় থাকায় বই, খাতা, স্কুল ড্রেস তৈরি ও বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠাগারটি এখনো কোন সরকারি সহয়তা পান নি। তবে সম্পসারনের জন্য সরকারি সহয়তা পেতে ইচ্ছুক।
পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার ফলে অনেকে নানাবিধ বই ও পত্রিকা পড়তে এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পাড়ায় এলাকার লাকজন বেশ খুশি। প্রায় প্রতিদিন ১৫-২০জন লোক এ পাঠাগার ব্যবহার করে থাকেন। তবে শুধু শুক্রবার পাঠাগারটি মহিলারা ব্যবহার করে। স্কুল ছাত্র এবং কৃষক শ্রেণীর লোকজন এ লাইব্রেরীর প্রধান উপকারভোগী। অতীতের চেয়ে বর্তমানে এ লাইব্রেরীর প্রতি পাঠকের আগ্রহ বেড়েছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে  ধর্মীয় বই, কম্পিউটার, ইন্টারনেট চাহিদা রয়েছে। এ সার্ভিস গুলো ভবিষতে যুক্ত করার ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের রয়েছে।  ৪-৫ কিলোমিটারের মধ্যে এরূপ লাইব্রেরী আর নেই।
লাইব্রেরীর বর্তমানে প্রায় দেড় হাজারের মতো বিভিন্ন বই রয়েছে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য হাজার খানেক গল্পের বই। বাকিগুলো ম্যাগাজিন গল্প, ছড়া, ধর্মীয় মনীষীদের জীবনী, উপন্যাস কবিতা ও চাষাবাদ সংক্রান্ত বই রয়েছে।



>