নানা সঙ্কটে বিপর্যয়ের মুখে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প


নানা সঙ্কটে বিপর্যয়ের মুখে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প


শোয়েব হোসেন, জামালপুর : নানা সংকট আর সমস্যায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প। কাঁচামালের অস্বাভাবীক মূল্য বৃদ্ধি আর পূঁজির অভাবে বংশ পরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক শিল্পী পরিবার। একটি সময় বাঙ্গালী সমাজে কাঁসার তৈজসপত্র ছিল যেকোন সংসারের জন্য একটি অনিবার্য অনুষজ্ঞ। মোগল সম্রাটের অন্দর মহলেও ছিল এর কদর। আর ভারত উপমহাদেশে এই কাঁসা শিল্পের সুতিকাগার ছিল জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কাসারী পল¬ী। অসংখ্য পরিবার জড়িয়ে ছিল এই শিল্পের সাথে। কিন্তু নানা সংকট আর সমস্যায় ইতিমধ্যেই এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন অনেকে।
একটা সময় ছিল ঝকঝকে, তকতকে কাঁসার বাসন-কোসন ছাড়া কোন বাঙ্গালীর ঘর-সংসার কল্পনা করা যেতোনা। গ্রামীণ বিয়ে-সাদী, খেলাধূলায় কাসার কলস আর বাসন ছিল উপহারের প্রথম পছন্দ। কাঁসার বাসন ছাড়া সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের পূজাঁর আয়োজনও ছিল অসম্ভব একটি বিষয়। মোগল আমল থেকেই পুরো ভারত বর্ষ জুড়ে ছিল কাঁসার কদর। আর সেসময়ই জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় কাসারী পল্ল¬ীতে গড়ে উঠে কাঁসা শিল্প। অসংখ্য পরিবার জড়িয়ে ছিল এই শিল্পের সাথে। এখানকার উন্নতমানের কাঁসার বাসন কোসনের কদর ছিল মোগল আর বৃটিশ রাজ পরিবারেও। সময়ের বিবর্তনের সাথে সেই কাঁসা শিল্পের জৈলুস এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সীসা, মেলামাইন, প¬াস্টিক,সিরামিক আর কাচের তৈজসপত্রের ভিড়ে এখন কাঁসার প্রচলন ততোটা না থাকলেও সৌন্দর্য প্রিয় মানুষ আর হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে এখনো কাঁসার তৈজসপত্রের কদর রয়েছে আগের মতই। দেশে-বিদেশে এখনো কাসার বাসন-কোসনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। তাই অনেক পরিবার বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পকে আকড়ে ছিল। কিন্ত পূঁজির অভাব, কারিগর সঙ্কট, কাঁচামালের দু¯প্রাপ্যতায় কোনভাবে টিকে থাকা ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে ।
সংশি¬ষ্ট কাঁসা শিল্পীদের বক্তব্য কাঁসার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত তামা আর রাং এর দু¯প্রাপ্যতা এই শিল্পকে সঙ্কটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তামা দেশে কমবেশী পাওয়া গেলেও রাং আমদানী করতে হয় মালয়েশিয়া থেকে। এছাড়া বেড়েছে কয়লার দামও। আর এসব কারণে টিকে থাকতে পারছে না কাসারী পরিবারগুলো। একই কারণে তৈরী হচ্ছেনা নতুন কারিগরও। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক কাসারী পরিবার। কমতে কমতে ইসলামপুরের কাসারী পল¬ীতে সর্বশেষ গত বছর পর্যন্ত টিকে ছিল ১২টি কাঁসা কারখানা। কিন্ত নানা সঙ্কটে চলতি বছর বন্ধ হয়ে গেছে আরো ৬টি কারখানা। ধুঁকে ধুঁকে এখনও যে কয়টি কারখানা টিকে রয়েছে তাও রয়েছে হুমকীর মুখে।
সংশি¬ষ্টদের দাবি সরকার যদি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, শুল্কমুক্ত রাং আমদানীর উদ্যোগ নেয় তবেই ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি টিকে থাকার পাশাপাশি এই শিল্পের পূনর্জাগরনের সম্ভাবনাও থাকবে।



>