জমে উঠতে শুরু করেছে নৌকার হাট


জমে উঠতে শুরু করেছে নৌকার হাট


ঝালকাঠি থেকে মনিরুজ্জামান মনির ॥ নদী মাতৃক দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম স্থান ঝালকাঠি। এ অঞ্চল বিভিন্ন বিষয়ে প্রসিদ্ধ। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের গ্রাম গাঁয়ের মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন হচ্ছে নাও (নৌকা)। প্রতি বছর এ মৌসুমে আটঘর ও কুড়িয়ানায় নৌকার হাট বসে। বর্তমানে মৌসুমের শুরুতে এ হাট মেলায় পরিণত হতে শুরু হয়েছে। এ নৌকার হাটে প্রতিদিন শত শত বিক্রেতারা হাজার হাজার নৌকা সাজিয়ে বেচা কেনা করেছে। দেখলে মনে হবে নৌকার মেলা বসেছে।
সরেজমিনে আটঘর, কুড়িয়ানার বিখ্যাত নৌকার হাটে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ঝালকাঠি জেলার বিল অঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত। এ অঞ্চলের ডুবিল, চামির, একতা, আতারপাড়া, গগন ও আটঘর গ্রামে এসব নৌকা তৈরি হয়। নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা জানায়, পেনিস ও টালাই নামের দু’ধরনের নৌকা তারা তৈরি করেন। পেনিস নৌকা ৮শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা এবং টালাই নৌকা ১ হাজার টাকা থেকে ১৩শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এর সাথে বৈঠা বিক্রি হচ্ছে আলাদা দামে। ঝালকাঠির কির্ত্তীপাশা থেকে নরেন মিস্ত্রি এ বাজারে দু’টি নৌকা বিক্রি করতে এসেছিল। তিনি জানান, একটি পেনিস নৌকা তৈরি করতে তার এক থেকে দেড় দিন সময় লাগে। খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ’ টাকা। প্রতিবছর বৈশাখ মাস থেকে নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন যা একটানা আশ্বিন মাস পর্যন্ত চলে।
নৌকা ব্যবসায়ীরা জানায়, বিক্রি ভাল হলেও বর্তমানে কাঠের দাম বাড়ায় পকেটে পয়সা জমে না। সেই সাথে এ হাটে ইজারাদারদের জুলুম ও খামখেয়ালিপনাও রয়েছে। নৌকা প্রতি শতকরা ৬ টাকা সরকার নির্ধারণ করে দিলেও ইজারাদাররা আদায় করছে শতকরা ১০ থেকে ১২ টাকা। নৌকা বিক্রেতা মিন্টু জমাদ্দার জানান, ২০ বছর ধরে নৌকা বানিয়ে এ হাটে বিক্রি করছে, নৌকা তৈরির কাজে সরকার যদি আর্থিক সহায়তা করে তাহলে এ শিল্পটি রক্ষার পাশাপাশি মাঝি পরিবার গুলো খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে পারবে। ঝালকাঠির বিনয়কাঠি গ্রামের আবুল হোসেন জানান, প্রতিবছর এ হাটে তিনি নৌকা কিনতে আসেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর নৌকার দাম একটু বেশি। দেশের সবচেয়ে বড় নৌকার এ হাটে ক্রেতা বা বিক্রেতাদের জন্য বসার কোন ব্যবস্থা করেনি ইজারাদাররা। যেহেতু বর্ষা মৌসুমে এ হাট বসে সেহেতু ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিজেপুরে কেনাবেচা করতে হয়। খালের পাড়ে রাস্তার উপরে হাট বসায় কিছুই করা যাচ্ছেনা বলে জানান ইজারাদার।



>