ঢাকা    রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভে ‘হাজারো মানুষ হত্যার’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হাত: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংঘটিত সহিংসতায় “হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে” এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো দায়ী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ওই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং বহু মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “অপরাধী” আখ্যা দিয়ে বলেন, এবারের ঘটনাটি আগের বিক্ষোভগুলোর চেয়ে আলাদা, কারণ এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই সরাসরি জড়িত ছিলেন।ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, খামেনি অভিযোগ করেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মাঠপর্যায়ে সহিংসতা পরিচালনা করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাতে জড়াবে না, তবে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না।আল জাজিরার তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদক রেসুল সারদার আতাস জানান, খামেনির বক্তব্যে প্রথমবারের মতো নিহতের সংখ্যা “হাজারে” পৌঁছানোর দাবি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, খামেনি দাবি করেছেন—আগের বিক্ষোভে মার্কিন হস্তক্ষেপ তুলনামূলক কম ছিল, কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্রীয় ভূমিকার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।যদিও সরকারিভাবে এখনো সুনির্দিষ্ট মৃত্যুসংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ দাবি করেছে, বিক্ষোভে অন্তত ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিলেন। খামেনি আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা ২৫০টির বেশি মসজিদ ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা বিদেশি শক্তির মদদে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।

বিক্ষোভে ‘হাজারো মানুষ হত্যার’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হাত: খামেনি