গণবার্তা

আর্কাইভ দেখুন

 অব্যবহৃত ২০০ সরকারী ভবনে হাসপাতাল ও মাতৃসদনে রূপান্তর হচ্ছেঃ সংসদে জানালেন প্রধামন্ত্রী

অব্যবহৃত ২০০ সরকারী ভবনে হাসপাতাল ও মাতৃসদনে রূপান্তর হচ্ছেঃ সংসদে জানালেন প্রধামন্ত্রী

জাতীয় সংসদের বুধবারের অধিবেশনে একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের ঘোষণা নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। অব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলোকে জনসেবায় রূপান্তর, কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের বিলাসিতা কমানোর মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে এক নতুন ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ওপর। তিনি বলেন, আরবান এলাকায় পড়ে থাকা সরকারি ২০০টি বহুতল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এই ভবনগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এসব ভবনকে আধুনিক হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় তিনি আরও জানান, বিগত সময়ে হামের টিকা আমদানিতে যে অবহেলা করা হয়েছিল, তা কাটাতে বর্তমান সরকার ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ে প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে এবং কিট সংকট নিরসনেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।কৃষিখাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগাতে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক একসাথে ১০টি জরুরি সেবা পাবেন, যার ফলে কৃষি প্রণোদনা বা সহায়তার জন্য তাকে আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে যেতে হবে না। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, তা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষকদের জন্য যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি, ন্যানো সারের ব্যবহার এবং আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।সংসদ সদস্যদের বিলাসিতা পরিহারের ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি কিংবা সরকারি প্লট সুবিধা আর নেবেন না। ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সরকারি কার্যপরিচালনার জন্য প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে, তবে তা ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না। সংসদ সদস্যদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বর্তমানে যে ৭০ হাজার টাকা ভাতা রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।শিশুদের জন্য সুখবর হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা প্রদানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রায় আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টাকারী সিন্ডিকেট বা ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি তার অনড় অবস্থানের কথা সংসদকে অবহিত করেন।


পল্লবীতে গৃহশিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা, মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাওয়া চুলকে ঘিরে রহস্য

পল্লবীতে গৃহশিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা, মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাওয়া চুলকে ঘিরে রহস্য

রাজধানীর পল্লবীতে গৃহশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনাকে (৬৮) হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা এতটাই নৃশংস ছিল যে, হাতুড়ির আঘাতে তার দাঁতও ভেঙে পড়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে নিহত জোসনার মুষ্টিবদ্ধ হাতে একটি লম্বা কালো চুল পাওয়া গেছে। এই চুলের সূত্র ধরেই হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।পল্লবী ১২ নম্বর এলাকার ৮ নম্বর রোডের গাজী মঞ্জিলে ভাড়া থাকতেন ফিরোজা খানম জোসনা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে একাই সেখানে বসবাস করতেন। তিন রুমের ফ্ল্যাটের মধ্যে দুই রুম সাবলেটে দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাসায় প্রবেশ করেন জোসনা। পরদিন সকাল ১০টার দিকে দারোয়ান দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা হতবাক হয়ে যান।নিহতের ভাই থানায় মামলা করেন। তিনি জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে জোসনা টিউশনি করিয়ে জীবন চালাতেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও ছিল সীমিত। নিহতের ভাই নাজমুল আলম নাজু বলেন, তাদের যাতায়াত কম ছিল, তবে জোসনা মাঝে মাঝে বাবার বাড়ি বা ভাইদের বাসায় আসতেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়ারা জানান, জোসনা নিজের নাম সালমা বলে পরিচয় দিতেন এবং তার স্বামী ও সন্তান রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে তাদের কেউ কখনো আসতে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তারা কল্পনাও করতে পারেননি। নিহতের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না এবং কোনো লেনদেনের বিষয়ও জানা যায়নি।চুরি-ডাকাতির কোনো আলামত না পাওয়ায় সাবলেটসহ ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাই এখন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের চুলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। এক সাবলেট ভাড়াটিয়া বলেন, নিহতের হাতে চুল ছিল, লম্বা চুল, মনে হচ্ছিল কোনো নারীর চুল। তার মেয়ের চুলের সঙ্গে মিল আছে বলে পুলিশ নমুনা নিয়েছে।ডিএমপির পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো, তবে তিনি স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকতেন। তিনি আরও বলেন, এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিন-চারটি অ্যাঙ্গেলে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে চুরি বা ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সাবলেট ভাড়াটিয়া ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মোবাইলসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভবনে সিসিটিভি না থাকায় আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে।


চানাচুরের প্যাকেটে মাদক, মোহাম্মদপুরে পুলিশের অভিযানে ৫০ লাখ টাকার মাদক ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

চানাচুরের প্যাকেটে মাদক, মোহাম্মদপুরে পুলিশের অভিযানে ৫০ লাখ টাকার মাদক ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে অভিনব কৌশলে মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাদক ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে মনো নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টেইলার্স ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির জন্য মনো চানাচুরের প্যাকেট ব্যবহার করতেন, যাতে সহজে ধরা না পড়ে। তার দোকান ও বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা বলেন, টেইলার্স ব্যবসার আড়ালে মনো দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করতো। চানাচুরের প্যাকেটের ভেতরে করে লাখ লাখ টাকার মাদক রাখা হতো। বিশেষ করে হেরোইন বহন করতে মনো চানাচুরের প্যাকেট ব্যবহার করত।একই দিন ক্যাম্পের চিহ্নিত সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। মো. জুয়েল রানা জানান, এলাকাটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে বহু মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইচক্র সক্রিয় রয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলের শাশুড়ির বাসা থেকে আমেরিকায় তৈরি একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এ সময় বিভিন্ন অপরাধ ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


ঘণ্টাখানেকের মাথায় ট্রাম্পের ঘোষণায় অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি, পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য, ভারত পড়ল চিন্তায়

ঘণ্টাখানেকের মাথায় ট্রাম্পের ঘোষণায় অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি, পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য, ভারত পড়ল চিন্তায়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে মাত্র কিছু সময় বাকি থাকতে হুট করে পুরো কৌশল বদলে ফেলেন। শেষ মুহূর্তে তিনি এই যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের অনুরোধেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরানি নেতৃত্ব এখন ‘গুরুতরভাবে বিভক্ত’, তাই তাদের একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ‘স্বতন্ত্র প্রস্তাব’ তৈরি করতে সময় দেওয়া প্রয়োজন। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা যখন ভেস্তে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছায়, তখন ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকায় শেষ মুহূর্তে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় তেহরান। এর ফলে শুরু হয় তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন। অনলাইন এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এটাই প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। ট্রাম্পের ভাষ্য, পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গেই পরামর্শ করে তিনি এই কৌশল পরিবর্তন করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরান সরকারের ভেতরে গভীর বিভাজন স্পষ্ট, যা মোটেও বিস্ময়কর নয়। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুরোধের ভিত্তিতেই ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন তিনি। তবে শর্ত পরিষ্কার করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ইরানি উপকূলীয় বন্দরগুলোর অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী সব সময় প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা না দেওয়া এবং আলোচনা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে, সেটা যে ফলাফলই হোক না কেন।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির ও তার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প তাদের অনুরোধ রেখেছেন এবং যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে দিয়েছেন, যাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। পাকিস্তান এই আস্থার মর্যাদা রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন, দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনা পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। প্রকৃতপক্ষে, যদি পাকিস্তান সত্যিই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখতে রাজি করাতে সক্ষম হয়, তাহলে তা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মর্যাদা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। এর আগেও ইরানের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনায় পাকিস্তানের এত আগ্রহের পেছনে রয়েছে নিজেদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের গভীর কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা অর্থনৈতিক দুর্বলতায় ভোগা পাকিস্তানের জন্য সরাসরি হুমকি। কারণ, আঞ্চলিক অশান্তি সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি ও উপসাগরীয় জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানকে বড় সংঘাতে টেনে নিয়ে যেতে পারে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় বাড়ে, মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে এবং বিনিময় হার অস্থির হয়ে পড়ে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যায়। একই প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দেশের শিল্পখাতের উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হবে, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান তাই এই কূটনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ‘দায়িত্বশীল মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়। গত সপ্তাহে ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির তেহরান সফরে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে কিছু অগ্রগতি এনেছিলেন, যদিও তা স্থায়ী হয়নি।পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অর্থনীতি ও সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামাবাদ মনে করে, তাদের প্রকৃত শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। বিশ্ব যখন বহুমুখী শক্তির দিকে ধাবিত, তখন পাকিস্তানের সামরিক নেতারা দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে চাইছেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং সৌদি আরব থেকে ৩০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ পাওয়ার মতো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে বিদেশি বিনিয়োগ টানার আশা করছে ইসলামাবাদ। অসিম মুনিরের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ কিছু অর্থনৈতিক চুক্তি করেছে পাকিস্তান। আলোচনার মাধ্যমে যদি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের সমাধান হয়, তাহলে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে এর দায়ের কিছু অংশ পাকিস্তানকেও বহন করতে হবে। ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী না হয়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এগিয়ে নিচ্ছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী খুঁজছিলেন, তখনই এই সুযোগ তৈরি হয়। ২০২৫ সালের জুনে হোয়াইট হাউসে আকস্মিক সফরের পর অসিম মুনির এই ভূমিকা পান বলে জানা যায়। এদিকে, গত বছরের ১২ দিনের ইসরাইল যুদ্ধে পাকিস্তানের সমর্থন ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করে। সাবেক কূটনীতিক আলী সারওয়ার নাকভি মনে করেন, ইরান কখনো জেনেভা বা ভিয়েনার মতো ইউরোপীয় শহরে আলোচনায় আস্থা রাখে না, বরং পাকিস্তানের ওপর তাদের আস্থা অনেক বেশি। আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত জামির আকরম জানান, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর ওয়াশিংটনে তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ভারতের জন্যও ইতিবাচক, যিনি মধ্যস্থতাই করুক না কেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে নয়াদিল্লির জন্য কিছু উদ্বেগ রয়েই গেছে। কারণ, কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন পাকিস্তান ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী নয়। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশটির সেনাবাহিনীর প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পারে, যা ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া শান্তির দালাল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী হতে পারে, বিশেষ করে অস্ত্র বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে।


বাংলাদেশিদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ সাদিও মানে

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি যোগ্যতা, খরচ, স্কলারশিপ ২০২৬

পেশোয়ারে আত্মঘাতী হামলায় তিন নিরাপত্তা সদস্য নিহত

২০২৬ থেকে দলিল রেজিস্ট্রেশনে বড় পরিবর্তন, প্রবাসীরাও অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ শীর্ষ কমান্ডার নিহত

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন এখন আরও সহজ—জেনে নিন সহজ ধাপগুলো!

পারিবারিক আদালতে বিনামূল্যে মামলা দায়েরের সুযোগ মিলবে ভুক্তভোগীদের

ব্রুনাইয়ের জালে ৮ গোল দিল বাংলাদেশ

ভদ্রতার ছোট ছোট নিয়মেই বড়ো সৌন্দর্য

১০

২০২৭ সালে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু হবে

অব্যবহৃত ২০০ সরকারী ভবনে হাসপাতাল ও মাতৃসদনে রূপান্তর হচ্ছেঃ সংসদে জানালেন প্রধামন্ত্রী

পল্লবীতে গৃহশিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা, মুষ্টিবদ্ধ হাতে পাওয়া চুলকে ঘিরে রহস্য

চানাচুরের প্যাকেটে মাদক, মোহাম্মদপুরে পুলিশের অভিযানে ৫০ লাখ টাকার মাদক ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

ঘণ্টাখানেকের মাথায় ট্রাম্পের ঘোষণায় অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি, পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য, ভারত পড়ল চিন্তায়

নওগাঁর নিয়ামতপুরে স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তান খুন: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিহতের বাবা-বোন-ভাগনে

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ‘আত্মসমর্পণের টেবিল’ নয়, যুদ্ধে নতুন কৌশল

নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ড ১৯৮, দারুণ জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

লাইফস্টাইল: তরমুজ কেনার ৭ কার্যকরী টিপস

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, সিরিজের আগে দল ঘোষণা করল পাকিস্তান

১০

ডিজেল-পেট্রোলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা