ঢাকা    রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

গুম সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন

গুমের শিকারদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, নিখোঁজদের বড় অংশ বিএনপির: কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন

গুমের শিকারদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, নিখোঁজদের বড় অংশ বিএনপির: কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন

গুম সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। গুম তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুমের শিকার হয়ে জীবিত ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবির এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে, যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

রোববার (৪ জানুয়ারি) গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, কমিশনের কাছে মোট ১ হাজার ৯১৩টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ২৮৭টি ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এখনো অনেকে গুমের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তার মতে, প্রকৃত গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আরও অনেক ভিকটিমের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা এখনো কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন না। আবার অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বা অনরেকর্ড বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুমের শিকার হয়ে জীবিত ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও নিখোঁজদের বড় অংশ বিএনপির নেতাকর্মী। কমিশনের মতে, এটি গুমের ঘটনাগুলোর রাজনৈতিক চরিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কমিশনের তদন্তে বেশ কয়েকটি আলোচিত ও উচ্চপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে একাধিক গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। একই সঙ্গে তদন্তে ভারতের সঙ্গে ‘রেন্ডিশন’ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষায় ‘পৈশাচিক’ শব্দটি আছে—এই ঘটনাগুলো এক কথায় সেই শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়।” তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদনে গণতন্ত্রের মোড়কে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে কীভাবে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার নির্মম দলিল উঠে এসেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা এসব নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কমিশনের সদস্যরাও সেই বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এমন একটি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতির ভবিষ্যতের জন্য এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এ ধরনের বর্বরতা যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য কার্যকর প্রতিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি প্রতিবেদনগুলো সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সেসব জায়গা ম্যাপিং করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে সেখানে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের তথ্য মিলেছে।

কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার দৃঢ় অবস্থান ও নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬


গুমের শিকারদের মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, নিখোঁজদের বড় অংশ বিএনপির: কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
গুম সংক্রান্ত তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। গুম তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুমের শিকার হয়ে জীবিত ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবির এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে, যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।রোববার (৪ জানুয়ারি) গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, কমিশনের কাছে মোট ১ হাজার ৯১৩টি গুমের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ২৮৭টি ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এখনো অনেকে গুমের অভিযোগ নিয়ে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তার মতে, প্রকৃত গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আরও অনেক ভিকটিমের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা এখনো কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন না। আবার অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বা অনরেকর্ড বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুমের শিকার হয়ে জীবিত ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও নিখোঁজদের বড় অংশ বিএনপির নেতাকর্মী। কমিশনের মতে, এটি গুমের ঘটনাগুলোর রাজনৈতিক চরিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।কমিশনের তদন্তে বেশ কয়েকটি আলোচিত ও উচ্চপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে একাধিক গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। একই সঙ্গে তদন্তে ভারতের সঙ্গে ‘রেন্ডিশন’ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ।প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষায় ‘পৈশাচিক’ শব্দটি আছে—এই ঘটনাগুলো এক কথায় সেই শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়।” তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবেদনে গণতন্ত্রের মোড়কে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে কীভাবে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার নির্মম দলিল উঠে এসেছে।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা এসব নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কমিশনের সদস্যরাও সেই বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এমন একটি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জাতির ভবিষ্যতের জন্য এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এ ধরনের বর্বরতা যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য কার্যকর প্রতিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি প্রতিবেদনগুলো সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।এ ছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সেসব জায়গা ম্যাপিং করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে সেখানে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের তথ্য মিলেছে। কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার দৃঢ় অবস্থান ও নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভিকটিমদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা