এএফপি | তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
আপডেট: ৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিন দিন আরও সহিংস রূপ নিচ্ছে।
রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বন্দর আব্বাস ও বোজনুর্দসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-এর একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় এসব ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর’ জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেবে। এর আগে তিনি ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তেহরান বলেছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডে আঘাতকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি। দেশটি বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ‘উসকানিদাতাকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ চোরাচালান করা অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করলেও চলমান সহিংসতার জন্য ‘বাইরের শক্তিকে’ দায়ী করেছেন।
পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন