ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী

বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যান পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত বৈঠক ছিল না। তবে দলীয় বাস্তবতা, সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এই বিধান অনুসারেই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে পারেননি এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি মুক্তি পেলেও আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণার বিষয়টি সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও তাকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছিল।

এর মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬


বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যান পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এ সময় তিনি আরও জানান, দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত বৈঠক ছিল না। তবে দলীয় বাস্তবতা, সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা এবং সামনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এই বিধান অনুসারেই তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে।করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে পারেননি এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি মুক্তি পেলেও আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণার বিষয়টি সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও তাকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা