ঢাকা    রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির জবাব

যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে আগে গুলি, পরে প্রশ্ন—ডেনমার্কের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে আগে গুলি, পরে প্রশ্ন—ডেনমার্কের সতর্কবার্তা
সংগৃহিত ছবিঃ ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর সামরিক মহড়া

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও ন্যাটো জোটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিক আগ্রাসন চালালে তাদের সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে’—এমন নির্দেশনার অধীনে কাজ করবে।

ডেনমার্কের এই অবস্থান ১৯৫২ সালের একটি শীতল যুদ্ধকালীন সামরিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে সেনারা ঊর্ধ্বতন অনুমতির অপেক্ষা না করেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।

তবে সামরিক বাস্তবতায় ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে টিকতে পারবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তি, যেখানে ডেনমার্কের অবস্থান ৪৫তম। ডেনমার্কের মোট সেনাসংখ্যা মাত্র প্রায় ১৭ হাজার ৩০০, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।

ডেনমার্কের সেনাবাহিনীতে রয়েছে আনুমানিক ৮ হাজার সদস্য, নৌবাহিনীতে ৩ হাজার ৫০০ এবং বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩ হাজার জনবল। দেশটির নৌবাহিনীতে সাবমেরিন নেই এবং বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত অধিকাংশ যুদ্ধবিমান পুরনো এফ-১৬ মডেলের। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসংখ্যা ১৩ লাখের বেশি এবং অত্যাধুনিক নৌ, বিমান ও স্থল যুদ্ধক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে ১৯৫১ সালের এক গোপন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে বিস্তৃত সামরিক সুবিধা ভোগ করছে। বর্তমানে পিটুফিক ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই চুক্তির সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই সেনা সংখ্যা বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্র একদিনের মধ্যেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও উভচর সেনা মোতায়েনই যথেষ্ট হবে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক দখলের জন্য।

গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে রয়েছে দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি এখনো তাত্ত্বিক হলেও গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে আগে গুলি, পরে প্রশ্ন—ডেনমার্কের সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও ন্যাটো জোটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিক আগ্রাসন চালালে তাদের সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে’—এমন নির্দেশনার অধীনে কাজ করবে।ডেনমার্কের এই অবস্থান ১৯৫২ সালের একটি শীতল যুদ্ধকালীন সামরিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে সেনারা ঊর্ধ্বতন অনুমতির অপেক্ষা না করেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।তবে সামরিক বাস্তবতায় ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে টিকতে পারবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তি, যেখানে ডেনমার্কের অবস্থান ৪৫তম। ডেনমার্কের মোট সেনাসংখ্যা মাত্র প্রায় ১৭ হাজার ৩০০, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।ডেনমার্কের সেনাবাহিনীতে রয়েছে আনুমানিক ৮ হাজার সদস্য, নৌবাহিনীতে ৩ হাজার ৫০০ এবং বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩ হাজার জনবল। দেশটির নৌবাহিনীতে সাবমেরিন নেই এবং বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত অধিকাংশ যুদ্ধবিমান পুরনো এফ-১৬ মডেলের। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসংখ্যা ১৩ লাখের বেশি এবং অত্যাধুনিক নৌ, বিমান ও স্থল যুদ্ধক্ষমতা রয়েছে।এদিকে ১৯৫১ সালের এক গোপন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে বিস্তৃত সামরিক সুবিধা ভোগ করছে। বর্তমানে পিটুফিক ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই চুক্তির সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই সেনা সংখ্যা বাড়াতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্র একদিনের মধ্যেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও উভচর সেনা মোতায়েনই যথেষ্ট হবে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক দখলের জন্য।গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে রয়েছে দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি এখনো তাত্ত্বিক হলেও গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা