জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ফৌজদারি দায় থেকে সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশের আওতায় জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংঘটিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। ওই সময়ের এমন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আগে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে সরকার।
তবে দায়মুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ, প্রতিশোধ বা পারিবারিক বিরোধ থেকে সংঘটিত অপরাধ—বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড—এই অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা ফৌজদারি দায় থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না।
ড. আসিফ নজরুল জানান, কোনো ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ ছিল কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার যদি মনে করে কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতা রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তাহলে তারা মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের সমমর্যাদা পাবে।
অধ্যাদেশে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। জানুয়ারির মধ্যেই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠনের কথাও জানান আইন উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতে যেন তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হয়রানির শিকার না হন—সে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন