গণবার্তা

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সিলেটের সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর অর্ধেক পথ পেরিয়েছি। এখন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

সমাবেশকে ঘিরে সিলেট নগরীতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বুধবার রাত থেকেই দূর-দূরান্তের নেতাকর্মীরা মাঠে এসে জমায়েত হন। রাতভর হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন কর্মীরা। দুপুরে তারেক রহমান মঞ্চে আসার সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের ভেতরে কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অতীতে যেমন ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল, এবারও একই চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশের মানুষ রাস্তায় নামলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।” তিনি গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার ও জুনায়েদ আহমদকে স্মরণ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বলেন, “আগে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া যেত ৪-৫ ঘণ্টায়, এখন লাগে ১০ ঘণ্টা। অথচ এই সময়ে লন্ডন যাওয়া সম্ভব।”
তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, খাল খনন পুনরায় শুরু করা, নারীদের সাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের সাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি পরিবারের প্রধান নারীকে মাসিক নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে। তিনি বলেন, “যার কাছে রিসোর্স থাকে, তার সম্মান থাকে।”

গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে সহায়তা দেয়া হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় পল্লী চিকিৎসকের আদলে স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেয়া হয়েছিল। তাই আমি বলেছি—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি, এখন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দুই ওলির মাজার জিয়ারতের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান এবং মরহুম স্বজনদের জন্য দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। সেখানে স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, “ডা. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান। আমার দাবি রইল, ১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ বিজয়ী হোক।”

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।” সভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার এমপি প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী।

তারেক রহমানের বার্তা ছিল স্পষ্ট—“দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সিলেটের সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর অর্ধেক পথ পেরিয়েছি। এখন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”সমাবেশকে ঘিরে সিলেট নগরীতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বুধবার রাত থেকেই দূর-দূরান্তের নেতাকর্মীরা মাঠে এসে জমায়েত হন। রাতভর হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন কর্মীরা। দুপুরে তারেক রহমান মঞ্চে আসার সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।তারেক রহমান বলেন, “দেশের ভেতরে কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অতীতে যেমন ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল, এবারও একই চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশের মানুষ রাস্তায় নামলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।” তিনি গুম হওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার ও জুনায়েদ আহমদকে স্মরণ করেন।তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বলেন, “আগে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া যেত ৪-৫ ঘণ্টায়, এখন লাগে ১০ ঘণ্টা। অথচ এই সময়ে লন্ডন যাওয়া সম্ভব।” তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, খাল খনন পুনরায় শুরু করা, নারীদের সাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের সাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি পরিবারের প্রধান নারীকে মাসিক নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে। তিনি বলেন, “যার কাছে রিসোর্স থাকে, তার সম্মান থাকে।”গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে সহায়তা দেয়া হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় পল্লী চিকিৎসকের আদলে স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।তারেক রহমান বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেয়া হয়েছিল। তাই আমি বলেছি—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি, এখন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দুই ওলির মাজার জিয়ারতের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান এবং মরহুম স্বজনদের জন্য দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। সেখানে স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, “ডা. জুবাইদা যেমন আপনাদের সন্তান, আমিও আপনাদের সন্তান। আমার দাবি রইল, ১২ তারিখে এই এলাকা থেকে ধানের শীষ বিজয়ী হোক।”সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।” সভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার এমপি প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী।তারেক রহমানের বার্তা ছিল স্পষ্ট—“দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা