ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ফের উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ আছে।
বৃহস্পতিবার ইরানজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এক বক্তব্যে পাকপুর বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ভুল হিসাব এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যথায় তাদের আরও কঠোর ও বেদনাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এখনো আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নজরদারি জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি বড় নৌবহর পাঠাচ্ছে।
গত বছরের জুনে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রাখেন ট্রাম্প।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে তিনি যোগ করেন, পরিস্থিতি এমন দিকে না যাক—সেটিই তিনি চান।
এদিকে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনটি স্তিমিত হয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন শান্ত হয়ে আসায় এই মুহূর্তে তেহরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা কমেছে এবং উভয় পক্ষই আপাতত কূটনৈতিক পথের সুযোগ খুঁজছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যদি ইরানের পক্ষ থেকে তার বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ হয়, তবে তার জবাব হবে ভয়াবহ।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ইরানে অস্থিরতা তৈরির পেছনে তারাই উসকানি দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতেই এই চেষ্টা চলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন