ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

৩৮৯ জনের বাবা একজনই!

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
৩৮৯ জনের বাবা একজনই!

 পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভয়াবহ ও অস্বাভাবিক তথ্যের সন্ধান পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, এক ব্যক্তির নামের সঙ্গে ৩৮৯ জন ভোটারকে সন্তান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। ওই সব ভোটার একই ব্যক্তিকে নিজেদের পিতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বাস্তব ও বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব বলে জানিয়েছে কমিশন।

এসআইআর সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এই তথ্য তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই কেন বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে— সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে কমিশন।

নথি অনুযায়ী, বীরভূম জেলার নানুর বিধানসভা এলাকায় এক ভোটারের সঙ্গে ৩৮৯ জন ভোটারকে সন্তান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একই ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে রাজ্যের আরও একাধিক জেলায়। হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় ৩১০ জন ভোটার একজন ব্যক্তিকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুর্শিদাবাদে এই সংখ্যা ১৯৯, দার্জিলিঙে ১৫২, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ১২০ এবং আসানসোলে ১৭০ জন ভোটার একই ব্যক্তিকে পিতা বা অভিভাবক হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের তথ্য ভোটার তালিকায় গুরুতর ত্রুটি বা গরমিলের ইঙ্গিত দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই আলাদা করে যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

হলফনামায় কমিশন জানায়, দার্জিলিং, আসানসোল, মেমারি, বীরভূমের নানুর, মুর্শিদাবাদের কান্দি, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ও ক্রান্তি, পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়া এবং হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় এই ধরনের অসঙ্গতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ছয় জনের বেশি সন্তানের তথ্য পাওয়া গেছে দুই লাখ ছয় হাজারেরও বেশি ভোটারের নথিতে। ১০ জনের বেশি সন্তানের উল্লেখ রয়েছে ৮ হাজার ৬৮২ জনের ক্ষেত্রে। আরও উদ্বেগজনকভাবে ৫০ জনের বেশি সন্তানের তথ্য মিলেছে ১০টি ঘটনায় এবং একশ জনের বেশি সন্তানের ঘটনা পাওয়া গেছে সাতটি ক্ষেত্রে। দুটি ঘটনায় এক ব্যক্তির সঙ্গে ২০০ জনের বেশি ভোটার যুক্ত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষায়, এসব তথ্য ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র স্পষ্ট উদাহরণ। এ কারণেই যেখানে ছয় জন বা তার বেশি ভোটারকে একজন ব্যক্তির সন্তান বা উত্তরসূরি হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের মাধ্যমে শুনানির নোটিস জারি করা হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা এক কোটি ৫১ লাখের বেশি ভোটারের জন্য শুনানির নোটিস তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অতিরিক্ত সন্তান সংক্রান্ত গরমিলের কারণেই প্রায় ২০ লাখ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনও পৃথক মামলা দায়ের করেন।

আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের হলফনামা জমা পড়ার পর এই শুনানি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ভোটার তালিকায় ধরা পড়া এই বিপুল অসঙ্গতি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সবার দৃষ্টি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার দিকেই।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


৩৮৯ জনের বাবা একজনই!

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
 পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভয়াবহ ও অস্বাভাবিক তথ্যের সন্ধান পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, এক ব্যক্তির নামের সঙ্গে ৩৮৯ জন ভোটারকে সন্তান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। ওই সব ভোটার একই ব্যক্তিকে নিজেদের পিতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বাস্তব ও বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব বলে জানিয়েছে কমিশন।এসআইআর সংক্রান্ত মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এই তথ্য তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই কেন বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে— সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে কমিশন।নথি অনুযায়ী, বীরভূম জেলার নানুর বিধানসভা এলাকায় এক ভোটারের সঙ্গে ৩৮৯ জন ভোটারকে সন্তান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একই ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে রাজ্যের আরও একাধিক জেলায়। হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় ৩১০ জন ভোটার একজন ব্যক্তিকে অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুর্শিদাবাদে এই সংখ্যা ১৯৯, দার্জিলিঙে ১৫২, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ১২০ এবং আসানসোলে ১৭০ জন ভোটার একই ব্যক্তিকে পিতা বা অভিভাবক হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন।নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের তথ্য ভোটার তালিকায় গুরুতর ত্রুটি বা গরমিলের ইঙ্গিত দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই আলাদা করে যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।হলফনামায় কমিশন জানায়, দার্জিলিং, আসানসোল, মেমারি, বীরভূমের নানুর, মুর্শিদাবাদের কান্দি, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ও ক্রান্তি, পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়া এবং হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় এই ধরনের অসঙ্গতির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ছয় জনের বেশি সন্তানের তথ্য পাওয়া গেছে দুই লাখ ছয় হাজারেরও বেশি ভোটারের নথিতে। ১০ জনের বেশি সন্তানের উল্লেখ রয়েছে ৮ হাজার ৬৮২ জনের ক্ষেত্রে। আরও উদ্বেগজনকভাবে ৫০ জনের বেশি সন্তানের তথ্য মিলেছে ১০টি ঘটনায় এবং একশ জনের বেশি সন্তানের ঘটনা পাওয়া গেছে সাতটি ক্ষেত্রে। দুটি ঘটনায় এক ব্যক্তির সঙ্গে ২০০ জনের বেশি ভোটার যুক্ত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।নির্বাচন কমিশনের ভাষায়, এসব তথ্য ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র স্পষ্ট উদাহরণ। এ কারণেই যেখানে ছয় জন বা তার বেশি ভোটারকে একজন ব্যক্তির সন্তান বা উত্তরসূরি হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের মাধ্যমে শুনানির নোটিস জারি করা হয়েছে।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা এক কোটি ৫১ লাখের বেশি ভোটারের জন্য শুনানির নোটিস তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অতিরিক্ত সন্তান সংক্রান্ত গরমিলের কারণেই প্রায় ২০ লাখ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনও পৃথক মামলা দায়ের করেন।আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের হলফনামা জমা পড়ার পর এই শুনানি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।ভোটার তালিকায় ধরা পড়া এই বিপুল অসঙ্গতি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সবার দৃষ্টি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার দিকেই।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা