গণবার্তা

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রথম ইশতেহার।

ইশতেহারের মূল স্লোগান ছিল “করব কাজ, গড়ব দেশ” এবং “সবার আগে বাংলাদেশ”। এতে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি এবং মোট ৫১ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।


৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি

  1. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারকে মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
  2. কৃষক কার্ড: কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় সহায়তা।
  3. স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মা-শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা।
  4. শিক্ষা সংস্কার: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, মিড-ডে মিল চালু।
  5. তরুণ কর্মসংস্থান: স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।
  6. ক্রীড়া উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ।
  7. পরিবেশ ও জলবায়ু: ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  8. ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের সম্মানী ও কল্যাণ ব্যবস্থা।
  9. ডিজিটাল অর্থনীতি: পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব স্থাপন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।

৫১ দফা অঙ্গীকারের মূল বিষয়

  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি
  • বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ।
  • সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার।
  • প্রশাসনে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন।
  • বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল।
  • গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আইন।
  • স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল।
  • প্রকল্পে রিয়েল টাইম অডিট ও পারফরম্যান্স অডিট।
  • পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ।
  • পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব করা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।

রাজনৈতিক দর্শন

বিএনপি বলছে, তাদের রাজনীতি প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। জনগণের অধিকারকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র গঠন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

ইশতেহারটি তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো—

  • শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন
  • দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০
  • তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা

বিশ্লেষণ

বিএনপির ইশতেহার মূলত সামাজিক সুরক্ষা, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। নতুনত্ব হিসেবে এসেছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড, যা সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইশতেহার তরুণ, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তাদের শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বার্তা দিয়েছে।


সম্ভাব্য প্রভাব

  • অর্থনীতি: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে।
  • সামাজিক সুরক্ষা: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।
  • রাজনীতি: উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার সংসদে ভারসাম্য আনতে পারে।
  • আন্তর্জাতিক সংযোগ: পেপাল চালু ও ই-কমার্স হাব স্থাপন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রথম ইশতেহার।ইশতেহারের মূল স্লোগান ছিল “করব কাজ, গড়ব দেশ” এবং “সবার আগে বাংলাদেশ”। এতে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি এবং মোট ৫১ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারকে মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। কৃষক কার্ড: কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় সহায়তা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মা-শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা। শিক্ষা সংস্কার: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, মিড-ডে মিল চালু। তরুণ কর্মসংস্থান: স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ। ক্রীড়া উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ। পরিবেশ ও জলবায়ু: ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের সম্মানী ও কল্যাণ ব্যবস্থা। ডিজিটাল অর্থনীতি: পেপাল চালু, ই-কমার্স হাব স্থাপন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ। ৫১ দফা অঙ্গীকারের মূল বিষয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ। সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার। প্রশাসনে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আইন। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল। প্রকল্পে রিয়েল টাইম অডিট ও পারফরম্যান্স অডিট। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ। পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব করা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। রাজনৈতিক দর্শনবিএনপি বলছে, তাদের রাজনীতি প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। জনগণের অধিকারকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র গঠন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।ইশতেহারটি তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো— শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বিশ্লেষণবিএনপির ইশতেহার মূলত সামাজিক সুরক্ষা, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। নতুনত্ব হিসেবে এসেছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড, যা সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইশতেহার তরুণ, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তাদের শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বার্তা দিয়েছে।সম্ভাব্য প্রভাব অর্থনীতি: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে। সামাজিক সুরক্ষা: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করবে। রাজনীতি: উচ্চকক্ষ প্রবর্তন ও বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার সংসদে ভারসাম্য আনতে পারে। আন্তর্জাতিক সংযোগ: পেপাল চালু ও ই-কমার্স হাব স্থাপন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা