আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর অন্যতম সাহাবি এবং দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত (আশারায়ে মুবাশশারা) সাহাবিদের একজন। তিনি ছিলেন তৎকালীন মুসলিম সমাজের ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম — কিন্তু তাঁর জীবনযাপন ছিল আশ্চর্য রকম সরল ও বিনয়পূর্ণ।
ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, তিনি এতটাই সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন যে অচেনা কেউ তাঁকে দেখলে তাঁর ও তাঁর খাদেমদের মাঝে পার্থক্য করতে কষ্ট হতো। অথচ ব্যবসা-বাণিজ্যে আল্লাহ তাঁকে বিপুল বরকত দান করেছিলেন।
ইতিহাসে উল্লেখ আছে, একবার তাঁর প্রায় ৭০০ উট বোঝাই বাণিজ্য কাফেলা মদিনায় প্রবেশ করে। উটের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে শহরে ধুলো উড়ে যায় এবং মানুষ ধারণা করে বড় কোনো বাহিনী এসেছে। পরে জানা যায়—এটি ছিল আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যবসায়িক কাফেলা।
উটগুলো খাদ্যশস্য, বস্ত্র ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্য বহন করছিল। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল বিরাট বাণিজ্যিক সম্পদ।
বর্ণনায় এসেছে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দান করতেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শত শত উট, স্বর্ণ-রৌপ্য এবং নগদ অর্থ আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন।
কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে এসেছে—তিনি একবার পুরো কাফেলাটিই দান করে দেন। যদিও এই ঘটনার সনদ সব ক্ষেত্রে শক্তিশালী নয়, তবুও তাঁর দানশীলতার ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সহীহ সূত্রে প্রমাণিত যে তিনি বহুবার বিশাল অঙ্কের সম্পদ দান করেছেন।
তাঁর ইন্তেকালের সময়ও তিনি উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক ছিলেন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়:
বহু উট ও ভেড়া
ঘোড়া
কৃষিকাজের উপযোগী পশু
বিপুল পরিমাণ দিরহাম ও দিনার
তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ এত বেশি ছিল যে উত্তরাধিকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ পেয়েছিলেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো—এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তাঁর অন্তর ছিল দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ত এবং আখিরাতমুখী।
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবন আমাদের শেখায়:
সম্পদ নিজে দোষের নয়; দোষ হলো সম্পদের প্রতি আসক্তি
ধনী হয়েও বিনয়ী থাকা সম্ভব
ব্যবসা ও তাকওয়া একসাথে চলতে পারে
আল্লাহর পথে ব্যয় করলে সম্পদ কমে না, বরং বরকত বাড়ে
তিনি ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন, যাঁরা দুনিয়ার শীর্ষ ধনীদের কাতারে থেকেও আখিরাতের সফলদের দলে স্থান করে নিয়েছেন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন