মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের দুটি ডেটা সেন্টার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড সেবা বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস)। এছাড়া বাহরাইনে তাদের আরেকটি স্থাপনার কাছাকাছি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনের 'সরাসরি আঘাতে' অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারগুলোর 'অবকাঠামোগত ক্ষতি' হয়েছে এবং ভবনটির 'বিদ্যুৎ বিঘ্নিত' হয়েছে। হামলার পরপরই জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে গ্রাহকদের নিজ নিজ ডেটা ব্যাকআপ করা অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, ইউরোপ বা অন্য কোথাও তাদের সিস্টেম স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডেটা সেন্টারগুলো একটি অঞ্চলে ওয়েবসাইট এবং অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের মতো বিস্তৃত ব্যবসা ও ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করে। এই ধরনের স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব গুরুতর হতে পারে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিপক্ষে সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। কাতার, কুয়েত ও আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে আমিরাতে অবস্থিত অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারগুলো হামলার শিকার হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও এখন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টের স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালাতে পারে।
অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডেটা সেন্টারগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে। তবে কবে নাগাদ পুরোপুরি সেবা চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক সীমায় আটকে নেই; বরং তা বৈশ্বিক প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে হামলা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের জন্য নতুন মাত্রা উন্মুক্ত করল। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী পদক্ষেপ নেয়।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন