ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর, সৌদিতে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা, মার্কিন সিনেটে আজ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাস প্রস্তাবের ভোট

ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর, সৌদিতে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা, মার্কিন সিনেটে আজ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাস প্রস্তাবের ভোট
ছবিঃ গণবার্তা/এআই

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আর এই সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর আজ ভোট হতে যাচ্ছে। তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮১ জনই শিশু।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো মনে করছে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের 'চরম সীমা' বা রেড লাইন অতিক্রম করেছে। কাতার সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারী এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ক্রমাগত আঘাত হানা হচ্ছে, যা আর বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

ইরান মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। তেহরানের লক্ষ্য হলো—এ অঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতের যে নিরাপদ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা ধূলিসাৎ করে দেওয়া। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ইরান ধারণা করছে, আরব দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবে, কিন্তু এই কৌশল উল্টো আরব দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি ঠেলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি হচ্ছে, তাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে কাণ্ডজ্ঞান ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'এই যুদ্ধ প্রতিবেশীদের সাথে নয়।' তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরান যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে তবে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক উত্তেজনার বৃত্ত আরও বড় হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্ব তাদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের সুরক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়াসহ সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রেখেছে।

সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সোমবারের এই হামলায় ইরানি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সিআইএ স্টেশনটিই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং স্থাপনার কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।

হামলার পর সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন মিশন এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধাহরান এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার আসন্ন হুমকির বিষয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন মিশন। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে মার্কিন কনস্যুলেটে না যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা

আল জাজিরা অ্যারাবিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালায়। ইরাকের শিয়াপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী 'সারায়া আউলিয়া আল-দাম' এই আক্রমণের দায় স্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এবং ইরানের প্রতি সমর্থন জানাতেই তারা এই হামলাটি পরিচালনা করেছে। ইরাকের ওই অঞ্চলে অবস্থিত 'ভিক্টোরিয়া' নামক সামরিক ঘাঁটিও এই ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে।

মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোট আজ

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে মার্কিন সিনেটে একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত বা বাধাগ্রস্ত করা।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় আজ বেলা ১১টায় (জিএমটি ১৬:০০) বিলটির ওপর বিতর্ক শুরু হবে এবং বিকাল ৪টায় (জিএমটি ২১:০০) চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও বাস্তুচ্যুতির নির্দেশ

লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আজ ভোরে শহরের আল-মাত্রাবা এলাকায় একটি ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে বর্তমানে জোর উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে জোরপূর্বক এলাকা ত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশের আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে মাজদাল সেলেম, হুলা এবং চাকরা উল্লেখযোগ্য।

সৌদি আরব ও কুয়েতে ড্রোন প্রতিহত

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ৯টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। বুধবার ভোরে এই ড্রোনগুলো শনাক্ত হওয়ার পরপরই সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়া হয়।

অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কিছু 'শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান' তাদের বাহিনী সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাঝ আকাশে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ ও শার্পনেল পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলোর ওপর এসে পড়ে। এর ফলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ সকালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আকাশ থেকে পড়া শার্পনেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে।

আমিরাত উপকূলে জাহাজে হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে সংস্থাটি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজের স্টিলের প্লেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি বা পানি প্রবেশ করেনি এবং ক্রু সদস্যদের সবাই নিরাপদ রয়েছেন।

তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণ ও হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বেশ কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানজুড়ে 'বিস্তৃত হামলার একটি নতুন তরঙ্গ' শুরু করার ঘোষণার পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের এই দফার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

পেন্টাগনের বৈঠক ও অস্ত্র মজুদ

পেন্টাগন ইরানে হামলার পর তাদের অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করার লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন লকহিড মার্টিন এবং রেথিয়নের মতো বড় কোম্পানিগুলোকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সভার মূল লক্ষ্য হলো অস্ত্র নির্মাতাদের ওপর উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা।

তবে গত সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ 'কার্যত সীমাহীন' এবং এই সরবরাহ ব্যবহার করেই অত্যন্ত সফলভাবে 'চিরকাল' যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ

ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্রিফিংয়ের পর তিনি আগের চেয়েও বেশি শঙ্কিত। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলছে, তা সফল করতে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন আরো মার্কিন হতাহতের আশঙ্কা করছে এবং তারা একটি অনির্দিষ্টকালের সংঘাতের দিকে পা বাড়াচ্ছে যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেসন ক্রো পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর দেয়া যুক্তিগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এটি স্পষ্টতই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি 'নিজের ইচ্ছায় জড়িয়ে পড়া যুদ্ধ', কারণ ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো 'আসন্ন হুমকি' ছিল না যা এ ধরনের হামলার সপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে পারত।

সেন্টকম প্রধানের বক্তব্য

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এ পর্যন্ত ৫০০-র বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়লেও বর্তমানে তাদের এই পাল্টা আক্রমণ করার ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে আসছে। কুপারের মতে, ইরানের মিসাইল ও লঞ্চারগুলোর ওপর ক্রমাগত আক্রমণ চালানোর ফলে তাদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা এখন দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়েছে।

হতাহতের সর্বশেষ তথ্য

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই নিহতের তালিকায় ১০ বছরের কম বয়সী ১৮১ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।

ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের সব ম্যাচ নির্ধারিত হলেও দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, 'আমার মতে ইরান খুব বাজেভাবে পরাজিত দেশ। তারা ধোঁয়ায় উড়ছে।' ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিটি দেশ, খেলোয়াড়, স্টাফ ও সমর্থকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর হুঁশিয়ারি, সৌদি ও ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা, মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে ভোট, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, উপসাগরীয় আকাশে ড্রোন ধ্বংস, তেহরানে নতুন বিস্ফোরণ এবং বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। একদিকে যুদ্ধের ময়দান, অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এখন দেখার বিষয়, সিনেটের ভোটে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং ইরান এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় কী কৌশল নেয়। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর, সৌদিতে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা, মার্কিন সিনেটে আজ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাস প্রস্তাবের ভোট

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে এবং ইরানকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আর এই সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর আজ ভোট হতে যাচ্ছে। তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮১ জনই শিশু।উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর হুঁশিয়ারিইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো মনে করছে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের 'চরম সীমা' বা রেড লাইন অতিক্রম করেছে। কাতার সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারী এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ক্রমাগত আঘাত হানা হচ্ছে, যা আর বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।ইরান মূলত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। তেহরানের লক্ষ্য হলো—এ অঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতের যে নিরাপদ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা ধূলিসাৎ করে দেওয়া। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর এবং বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।ইরান ধারণা করছে, আরব দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবে, কিন্তু এই কৌশল উল্টো আরব দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি ঠেলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি হচ্ছে, তাতে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে কাণ্ডজ্ঞান ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'এই যুদ্ধ প্রতিবেশীদের সাথে নয়।' তিনি সতর্ক করেছেন যে ইরান যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে তবে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক উত্তেজনার বৃত্ত আরও বড় হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্ব তাদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের সুরক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়াসহ সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রেখেছে।সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলাসৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সোমবারের এই হামলায় ইরানি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সিআইএ স্টেশনটিই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং স্থাপনার কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।হামলার পর সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন মিশন এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধাহরান এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার আসন্ন হুমকির বিষয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন মিশন। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে মার্কিন কনস্যুলেটে না যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলাআল জাজিরা অ্যারাবিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালায়। ইরাকের শিয়াপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী 'সারায়া আউলিয়া আল-দাম' এই আক্রমণের দায় স্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এবং ইরানের প্রতি সমর্থন জানাতেই তারা এই হামলাটি পরিচালনা করেছে। ইরাকের ওই অঞ্চলে অবস্থিত 'ভিক্টোরিয়া' নামক সামরিক ঘাঁটিও এই ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে।মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোট আজকংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে মার্কিন সিনেটে একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত বা বাধাগ্রস্ত করা।নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় আজ বেলা ১১টায় (জিএমটি ১৬:০০) বিলটির ওপর বিতর্ক শুরু হবে এবং বিকাল ৪টায় (জিএমটি ২১:০০) চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও বাস্তুচ্যুতির নির্দেশলেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আজ ভোরে শহরের আল-মাত্রাবা এলাকায় একটি ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে বর্তমানে জোর উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে জোরপূর্বক এলাকা ত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশের আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে মাজদাল সেলেম, হুলা এবং চাকরা উল্লেখযোগ্য।সৌদি আরব ও কুয়েতে ড্রোন প্রতিহতসৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ৯টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। বুধবার ভোরে এই ড্রোনগুলো শনাক্ত হওয়ার পরপরই সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়া হয়।অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কিছু 'শত্রুভাবাপন্ন আকাশযান' তাদের বাহিনী সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাঝ আকাশে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ফলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ ও শার্পনেল পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলোর ওপর এসে পড়ে। এর ফলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ সকালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আকাশ থেকে পড়া শার্পনেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে।আমিরাত উপকূলে জাহাজে হামলাসংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে সংস্থাটি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজের স্টিলের প্লেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি বা পানি প্রবেশ করেনি এবং ক্রু সদস্যদের সবাই নিরাপদ রয়েছেন।তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণ ও হামলার তীব্রতা বৃদ্ধিইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে বেশ কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানজুড়ে 'বিস্তৃত হামলার একটি নতুন তরঙ্গ' শুরু করার ঘোষণার পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের এই দফার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।পেন্টাগনের বৈঠক ও অস্ত্র মজুদপেন্টাগন ইরানে হামলার পর তাদের অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করার লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন লকহিড মার্টিন এবং রেথিয়নের মতো বড় কোম্পানিগুলোকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সভার মূল লক্ষ্য হলো অস্ত্র নির্মাতাদের ওপর উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা।তবে গত সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ 'কার্যত সীমাহীন' এবং এই সরবরাহ ব্যবহার করেই অত্যন্ত সফলভাবে 'চিরকাল' যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্রিফিংয়ের পর তিনি আগের চেয়েও বেশি শঙ্কিত। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলছে, তা সফল করতে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন আরো মার্কিন হতাহতের আশঙ্কা করছে এবং তারা একটি অনির্দিষ্টকালের সংঘাতের দিকে পা বাড়াচ্ছে যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেসন ক্রো পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর দেয়া যুক্তিগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এটি স্পষ্টতই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি 'নিজের ইচ্ছায় জড়িয়ে পড়া যুদ্ধ', কারণ ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো 'আসন্ন হুমকি' ছিল না যা এ ধরনের হামলার সপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে পারত।সেন্টকম প্রধানের বক্তব্যমার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এ পর্যন্ত ৫০০-র বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়লেও বর্তমানে তাদের এই পাল্টা আক্রমণ করার ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে আসছে। কুপারের মতে, ইরানের মিসাইল ও লঞ্চারগুলোর ওপর ক্রমাগত আক্রমণ চালানোর ফলে তাদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা এখন দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়েছে।হতাহতের সর্বশেষ তথ্যইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই নিহতের তালিকায় ১০ বছরের কম বয়সী ১৮১ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তাচলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের সব ম্যাচ নির্ধারিত হলেও দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, 'আমার মতে ইরান খুব বাজেভাবে পরাজিত দেশ। তারা ধোঁয়ায় উড়ছে।' ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিটি দেশ, খেলোয়াড়, স্টাফ ও সমর্থকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর হুঁশিয়ারি, সৌদি ও ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা, মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে ভোট, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, উপসাগরীয় আকাশে ড্রোন ধ্বংস, তেহরানে নতুন বিস্ফোরণ এবং বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। একদিকে যুদ্ধের ময়দান, অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এখন দেখার বিষয়, সিনেটের ভোটে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং ইরান এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় কী কৌশল নেয়। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা