ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত, খামেনির ছেলে মোজতবা দেশের শীর্ষ পদে

 ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত, খামেনির ছেলে মোজতবা দেশের শীর্ষ পদে

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে ইরানে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। বুধবার ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত আলি খামেনিকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (এসেম্বলি অব এক্সপার্টস) দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করেছে বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোজতবা খামেনি প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

নতুন নেতা নির্বাচনের এই খবর সামনে আসার মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভূমিকা এবং নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থন আগামী দিনে ইরানের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে। বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানিদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে বিবেচিত মাশহাদের বিখ্যাত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হবে।

৮৬ বছর বয়সী খামেনির ওপর গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে টানা ৩৬ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাশহাদেই তার জন্ম হয়েছিল। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে খামেনি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তবে দাফনের নির্দিষ্ট সময় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের বিদ্যমান নীতিগুলো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি তার পিতার মতই রক্ষণশীল চিন্তাধারার অনুসারী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই এই নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশটির জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই নতুন নেতৃত্বকে কেমনভাবে নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন নেতার প্রথম পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রান্তিকালে ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পিতার পথ অনুসরণ করে মোজতবা খামেনি কেমন নীতি গ্রহণ করেন, তা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের মধ্যেই তার নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নতুন নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব কেমন পড়ে। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত, খামেনির ছেলে মোজতবা দেশের শীর্ষ পদে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে ইরানে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। বুধবার ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত আলি খামেনিকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ।ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (এসেম্বলি অব এক্সপার্টস) দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করেছে বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোজতবা খামেনি প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।নতুন নেতা নির্বাচনের এই খবর সামনে আসার মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভূমিকা এবং নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থন আগামী দিনে ইরানের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে। বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানিদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে বিবেচিত মাশহাদের বিখ্যাত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হবে।৮৬ বছর বয়সী খামেনির ওপর গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে টানা ৩৬ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাশহাদেই তার জন্ম হয়েছিল। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে খামেনি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তবে দাফনের নির্দিষ্ট সময় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের বিদ্যমান নীতিগুলো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি তার পিতার মতই রক্ষণশীল চিন্তাধারার অনুসারী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই এই নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশটির জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।আন্তর্জাতিক মহলে এই নতুন নেতৃত্বকে কেমনভাবে নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন নেতার প্রথম পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রান্তিকালে ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পিতার পথ অনুসরণ করে মোজতবা খামেনি কেমন নীতি গ্রহণ করেন, তা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের মধ্যেই তার নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নতুন নেতৃত্বকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব কেমন পড়ে। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা