মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি পুরোপুরি মোতায়েন করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানে হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান, বিমানবাহী দুটি রণতরী এবং কয়েকটি বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। তিনি এই হামলাকে 'কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে আরও সামরিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা সেসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি যেগুলো থেকে আমাদের ওপর হামলা হতে পারে। আমরা ইরানি নৌবাহিনীকেও লক্ষ্য করেছি, যার মধ্যে রয়েছে তাদের সবচেয়ে কার্যকর সাবমেরিন।'
অ্যাডমিরাল কুপার আরও দাবি করেছেন, ইতোমধ্যেই ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রতল, আকাশপথ এবং সাইবারস্পেস পর্যন্ত ইরানের ওপর নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সামরিক শক্তির বিস্তারিত
সেন্টকম প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত সামরিক শক্তির মধ্যে রয়েছে—
এই বিপুল সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বৃহত্তম সামরিক মোতায়েন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক অভিযানের পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌশক্তিকে পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েছে।
অ্যাডমিরাল কুপারের বক্তব্যে 'সমুদ্রতল, আকাশপথ এবং সাইবারস্পেস' পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন হামলার কথা বলা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, এই যুদ্ধ শুধু প্রচলিত অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সাইবার যুদ্ধও এর একটি বড় অংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দিন দিন ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার সেনা ও ২০০ যুদ্ধবিমান অংশ নেওয়ার অর্থ হলো, এই যুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করতে চলেছে। ইতোমধ্যে ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি এবং সমুদ্রতল থেকে সাইবারস্পেস পর্যন্ত হামলার কথা বলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, ইরান কী জবাব দেয় এবং এই সংকট কোথায় গিয়ে ঠেকে। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন