ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

রাজবাড়ীতে বিয়ের কথা বলে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে বিয়ের কথা বলে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে ঘটেছে নৃশংস ঘটনা। বিয়ের আশ্বাসে গাজীপুর থেকে স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের মাকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে আকাশ মণ্ডল (২৯) ও একই ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত বাগলী গ্রামের মো. আরশেদ মণ্ডলের ছেলে জামাল মণ্ডল (২২)।

ভুক্তভোগী তরুণী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং তার ৪ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের জয়নাল শেখের ছেলে সজলের (২৩) সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সজলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবসান ঘটে।

পরে সজলের বন্ধু আকাশ মণ্ডল তাকে ফোন করে পাংশায় এনে সজলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গাজীপুর থেকে পাংশায় আসেন। পরে তাকে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে আকাশ মণ্ডল ও জামাল মণ্ডল পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই থানার ইসলামপুর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, আসামি আকাশ মণ্ডলের নামে ৬টি ও জামাল মণ্ডলের নামে অস্ত্র, ডাকাতিসহ ৪টি মামলা রয়েছে। এই দুই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা এর আগেও বিভিন্নভাবে জামিনে মুক্ত ছিল।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনা আমাদের সমাজের বিকৃতি ও নারীর প্রতি সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। আশার কথা হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে মুক্ত ছিল, সেই প্রশ্নও থেকেই যায়। আদালতে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজ। 

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


রাজবাড়ীতে বিয়ের কথা বলে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক নারীর সঙ্গে ঘটেছে নৃশংস ঘটনা। বিয়ের আশ্বাসে গাজীপুর থেকে স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের মাকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে আকাশ মণ্ডল (২৯) ও একই ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত বাগলী গ্রামের মো. আরশেদ মণ্ডলের ছেলে জামাল মণ্ডল (২২)।ভুক্তভোগী তরুণী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং তার ৪ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের জয়নাল শেখের ছেলে সজলের (২৩) সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সজলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবসান ঘটে।পরে সজলের বন্ধু আকাশ মণ্ডল তাকে ফোন করে পাংশায় এনে সজলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গাজীপুর থেকে পাংশায় আসেন। পরে তাকে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে আকাশ মণ্ডল ও জামাল মণ্ডল পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই থানার ইসলামপুর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।ওসি আরও জানান, আসামি আকাশ মণ্ডলের নামে ৬টি ও জামাল মণ্ডলের নামে অস্ত্র, ডাকাতিসহ ৪টি মামলা রয়েছে। এই দুই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা এর আগেও বিভিন্নভাবে জামিনে মুক্ত ছিল।বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনা আমাদের সমাজের বিকৃতি ও নারীর প্রতি সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। আশার কথা হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে মুক্ত ছিল, সেই প্রশ্নও থেকেই যায়। আদালতে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজ। 

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা