মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইরান আবারও ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা শুরু হয়, যা সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে গড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে মার্কিন সাবমেরিন একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর এই হামলা চালালো ইরান। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুরো অঞ্চলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
ইরানের নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তেল আবিব ও জেরুজালেমে সাইরেন বেজে উঠেছে এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলায় হতাহতের তাৎক্ষণিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এর আগে মার্কিন সাবমেরিন একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট জানিয়েছেন, সাবমেরিন থেকে ডুবানো ইরানি যুদ্ধজাহাজের ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইরানি নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ভবন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তু এবং আধাসামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
হতাহতের সর্বশেষ তথ্য
এই সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
ইরানে নিহত: ১,০৪৫ জনের বেশি
লেবাননে নিহত: ৭০ জনের বেশি
ইসরায়েলে নিহত: ১১ জন
মার্কিন সেনা নিহত: ৬ জন
আহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তেল সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ভ্রমণকারীরা আটকা পড়েছেন। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোও এই সংকটে সতর্ক অবস্থানে এসেছে—
কাতারে মার্কিন দূতাবাসের আশেপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে
কুয়েতের উপকূলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, 'আমরা আমাদের মাটিতে পা রাখা কোনো শত্রুকে ছাড় দেব না। তাদের প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব আমরা বহুগুণে দেব।'
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়ে যাওয়ার মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন সাবমেরিনের হামলা এবং ইসরায়েলের পাল্টা হামলা—সব মিলিয়ে এই অঞ্চল এখন এক ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি। হতাহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং তা ক্রমেই বাড়ছে। এই যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আমরা এই বিষয়ে নিয়মিত খবর রাখছি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন