সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয় জেনেই ইরান ‘অসম সহনশীলতা’ কৌশল বেছে নিয়েছে। এই কৌশলের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত করার চেষ্টা
ইরানের পরিকল্পনা, সংঘাতকে শুধু নিজেদের সীমান্তে না রেখে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এ লক্ষ্যে তারা—
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে পারে
প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামানোর চিন্তা করছে
বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাহত করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে অচলাবস্থা তৈরি করার কৌশল নিয়েছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলে আন্তর্জাতিক মহলকে চাপে ফেলতে চায় তেহরান।
অর্থনৈতিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি—শেষ খেলা
ইরানের অন্যতম বড় অস্ত্র অর্থনীতি। তাদের লক্ষ্য জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করা। এতে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, যা ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে।
ইরানের ধারণা, আমেরিকার সেনা নিহত হওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ট্রাম্পের 'এমএজিএ' (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকরাই এই যুদ্ধের বিরোধিতা শুরু করবে। আর সে কারণেই ভোটব্যাংকের চাপে পড়ে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবেন ট্রাম্প।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করার কৌশল
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের সস্তা ড্রোন এবং মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েল ও আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
থাড, আয়রন ডোম বা প্যাট্রিয়টের মতো মার্কিন-ইসরায়েলি মিসাইল ইন্টারসেপ্টর অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যদিকে ইরানের ড্রোন তুলনামূলকভাবে সস্তা। এই 'স্ট্যামিনা টেস্ট' বা ধৈর্যের পরীক্ষায় ইরান চায় আমেরিকার বিপুল ব্যয়বহুল মিসাইল ভান্ডার খালি করে দিতে।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যালি নাসরের মতে, ইরান গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে। তাই তাদের কৌশল হলো যুদ্ধ জটিল করে তোলা এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপদ বাড়িয়ে শত্রুর ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করা।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ বলেন, 'ইসলামিক রিপাবলিকের জন্য টিকে থাকাই হলো বিজয়, সেটির জন্য যত চড়া মূল্যই দিতে হোক না কেন।'
পরিণতি কী দাঁড়াতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে যেমন এটি আঞ্চলিক যুদ্ধকে প্রসারিত করতে পারে, অন্যদিকে তেমনই বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাট ধাক্কা দিতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে ইরানের ধারণা, শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে পশ্চিমা শক্তিগুলো। এখন দেখার বিষয়, এই 'অসম সহনশীলতা' কৌশলে ইরান কতটা সফল হয়।
বিষয় : ইরান

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন