গণবার্তা

নেপালে সরকার গঠন করতে চলেছে গণ-অভ্যুত্থানকারীরা

নেপালে সরকার গঠন করতে চলেছে গণ-অভ্যুত্থানকারীরা

সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে নেপালে। প্রাথমিক গণনায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। বলতে গেলে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে দলটি 

গত সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি অভ্যুত্থানের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। তিন দিন পরে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে সাধারণ নির্বাচন হয় 

যারা এগিয়ে আছেন

প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি এগিয়ে রয়েছে ৬০টির বেশি আসনে। অন্যদিকে, নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে এবং ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৪-৫টি আসনে 

আরএসপির প্রধান তারকা প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি 'বালেন' নামেই বেশি পরিচিত। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অঘোষিত নেতা ছিলেন এই র্যাপার। তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান নেপালের তরুণ প্রজন্মের সিংহভাগ 

বালেন্দ্র লড়ছেন ঝাপা-৫ আসনে, যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। প্রাথমিক গণনায় বালেন্দ্র এগিয়ে রয়েছেন 

বালেন্দ্রের দলের চেয়ারম্যান হলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে। লামিছানে একজন সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক, যিনি তার লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনিও চিতওয়ান-২ আসনে এগিয়ে রয়েছেন 

পুরোনো ও নতুনের লড়াই

নেপালের আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন 

গত সেপ্টেম্বরে নেপালের জেন-জি অভ্যুত্থানের মুখে ওলি সরকারের পতনের পর অনেকেই এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রভাব খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে, তার সঙ্গে নেপালের ঘটনার মিল দেখেছিলেন অনেকে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর দেখা যায়, সে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন পুরোনো দল বিএনপিতেই। খুব একটা আশাপ্রদ ফল করতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু নেপালের অবস্থা পুরো বিপরীত। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিংবা পরিচিত দলগুলোর ওপর নয়, বরং দেশটি আস্থা রাখছে তুলনামূলক নতুন দল ও নতুন নেতার ওপরেই 

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


নেপালে সরকার গঠন করতে চলেছে গণ-অভ্যুত্থানকারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
সাধারণ নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে নেপালে। প্রাথমিক গণনায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। বলতে গেলে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে দলটি ।গত সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি অভ্যুত্থানের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। তিন দিন পরে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে সাধারণ নির্বাচন হয় ।যারা এগিয়ে আছেনপ্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, ১৬৫টি আসনের মধ্যে আরএসপি এগিয়ে রয়েছে ৬০টির বেশি আসনে। অন্যদিকে, নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯টি আসনে এবং ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৪-৫টি আসনে ।আরএসপির প্রধান তারকা প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি 'বালেন' নামেই বেশি পরিচিত। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অঘোষিত নেতা ছিলেন এই র্যাপার। তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান নেপালের তরুণ প্রজন্মের সিংহভাগ ।বালেন্দ্র লড়ছেন ঝাপা-৫ আসনে, যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। প্রাথমিক গণনায় বালেন্দ্র এগিয়ে রয়েছেন ।বালেন্দ্রের দলের চেয়ারম্যান হলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে। লামিছানে একজন সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক, যিনি তার লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনিও চিতওয়ান-২ আসনে এগিয়ে রয়েছেন ।পুরোনো ও নতুনের লড়াইনেপালের আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন ।গত সেপ্টেম্বরে নেপালের জেন-জি অভ্যুত্থানের মুখে ওলি সরকারের পতনের পর অনেকেই এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রভাব খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে, তার সঙ্গে নেপালের ঘটনার মিল দেখেছিলেন অনেকে।গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর দেখা যায়, সে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন পুরোনো দল বিএনপিতেই। খুব একটা আশাপ্রদ ফল করতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু নেপালের অবস্থা পুরো বিপরীত। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিংবা পরিচিত দলগুলোর ওপর নয়, বরং দেশটি আস্থা রাখছে তুলনামূলক নতুন দল ও নতুন নেতার ওপরেই ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা