ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
গণবার্তা

ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশন কর্মচারীদের পিটুনিতে ছাত্রনেতা হত্যার প্রতিশোধে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড, বাস শ্রমিকদের অবরোধ

ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশন কর্মচারীদের পিটুনিতে ছাত্রনেতা হত্যার প্রতিশোধে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড, বাস শ্রমিকদের অবরোধ

ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরব আহমেদ (২২) নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতেই শহরের দুটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রাখা তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা অবরোধ করে রাখেন বাসশ্রমিকেরা। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে নীরব আহমেদ তাঁর দুই বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। কিন্তু স্টেশনের বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুক্ষণ পর নীরব দেখতে পান, স্টেশনের কর্মীরাই বোতলে তেল ভরছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্রয়কর্মীরা বাঁশের লাঠি নিয়ে নীরবকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নীরব আহমেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা সাবেক আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। তাঁর সৎ বাবা হারুন অর রশীদ জানান, নীরব তাঁর কাছেই বড় হয়েছেন। পরে ঝিনাইদহ শহরে খালার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতেন।

নীরব নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন রাতেই তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকের শহরের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত অপর ফিলিং স্টেশন সৃজনীতে ভাঙচুর চালান। একই সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পার্ক করা জেআর পরিবহনের একটি বাসসহ তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদ ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও আমার মালিকানাধীন সৃজনী ফিলিং স্টেশন ও জেআর পরিবহনের একটি বাসসহ অপর মালিকের দুটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"

আজ সকাল থেকে নীরব হত্যা ও বাস পোড়ানোর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ বাসশ্রমিকেরা ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা অবরোধ করে দেন। পুড়ে যাওয়া বাস সড়কের ওপর আড়াআড়ি ভাবে রাখলে ঢাকা-ফরিদপুরগামী মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, "টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি কোচে গভীর রাতে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত আগুন দিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।"

বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনায় মামলা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, নীরব হত্যাকাণ্ডের পর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো ছাত্রনেতা নিহত হওয়ার সঙ্গেই সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। সব কটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নীরব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে ইতোমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর ঝিনাইদহ সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশন কর্মচারীদের পিটুনিতে ছাত্রনেতা হত্যার প্রতিশোধে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড, বাস শ্রমিকদের অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরব আহমেদ (২২) নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতেই শহরের দুটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রাখা তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা অবরোধ করে রাখেন বাসশ্রমিকেরা। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে নীরব আহমেদ তাঁর দুই বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। কিন্তু স্টেশনের বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুক্ষণ পর নীরব দেখতে পান, স্টেশনের কর্মীরাই বোতলে তেল ভরছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্রয়কর্মীরা বাঁশের লাঠি নিয়ে নীরবকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নীরব আহমেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা সাবেক আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। তাঁর সৎ বাবা হারুন অর রশীদ জানান, নীরব তাঁর কাছেই বড় হয়েছেন। পরে ঝিনাইদহ শহরে খালার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতেন।নীরব নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন রাতেই তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকের শহরের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত অপর ফিলিং স্টেশন সৃজনীতে ভাঙচুর চালান। একই সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পার্ক করা জেআর পরিবহনের একটি বাসসহ তিনটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদ ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও আমার মালিকানাধীন সৃজনী ফিলিং স্টেশন ও জেআর পরিবহনের একটি বাসসহ অপর মালিকের দুটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"আজ সকাল থেকে নীরব হত্যা ও বাস পোড়ানোর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ বাসশ্রমিকেরা ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকা অবরোধ করে দেন। পুড়ে যাওয়া বাস সড়কের ওপর আড়াআড়ি ভাবে রাখলে ঢাকা-ফরিদপুরগামী মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, "টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি কোচে গভীর রাতে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত আগুন দিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।"বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনায় মামলা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, নীরব হত্যাকাণ্ডের পর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো ছাত্রনেতা নিহত হওয়ার সঙ্গেই সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। সব কটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে নীরব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাজ ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে ইতোমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর ঝিনাইদহ সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা