ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বেয়ারশেবা ও তেল আবিব শহর এবং জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে 'অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪'-এর ২৮তম ধাপে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
আইআরজিসি জানিয়েছে, বেয়ারশেবা ও তেল আবিবে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল 'খায়বার' ধরনের, যার ওয়ারহেড 'অত্যন্ত ভারি'। একই সাথে জর্ডানের আজরাক বিমান ঘাঁটির অবকাঠামোতেও একাধিক স্যালভো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘাঁটিকে মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সক্রিয় আক্রমণাত্মক ঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বেয়ারশেবা এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রও রয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছিল যে তারা ইরান সরকারের সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ৬ মার্চ সারা পশ্চিম ইরানে ৪০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও ড্রোন স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানে ৬,৫০০টিরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিনে আবুধাবি ও দুবাইসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এ পর্যন্ত ৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে 'সামান্য দুর্ঘটনা' ঘটলেও বিমানবন্দরের কার্যক্রমে তেমন প্রভাব পড়েনি।
যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, "যুক্তরাজ্য যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার পরিণাম ভালো হবে না।"
ব্রিটেন সম্প্রতি কাতারে চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে এবং সাইপ্রাসে ড্রোন-বিরোধী হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। ইরানের এই সতর্কবার্তা যুক্তরাজ্যের সামরিক সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়ায় এল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফা আল-হিয়ারি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের নিক্ষিপ্ত ১১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মধ্যে ১০৮টি তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
তিনি জানান, এই হামলায় ইরানের ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৯টি ড্রোন জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১৯ জন সামান্য আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়ি ও গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান 'অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪' শুরু করে, যার ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সর্বশেষ হামলা এবং যুক্তরাজ্যকে সতর্কবার্তা এই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আকার দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন