সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় তিন হাজার ১৮৩ জন যৌথ বাহিনীর সদস্য।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অংশ নেন বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা—
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য
জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ জন সদস্য
আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য
ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য
পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য
এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য
র্যাবের ৩৭১ জন সদস্য
সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। এছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযানকে কার্যকর করতে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়—
তিনটি হেলিকপ্টার
১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার)
র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড
১২টি ড্রোন
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়।
তল্লাশিকালে উদ্ধার করা হয়—
দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি পিস্তল ও একটি এলজি)
চারটি কার্তুজ
১১টি ককটেল
১৭টি দেশীয় অস্ত্র
১৯টি সিসি ক্যামেরা
দুটি ডিভিআর
একটি পাওয়ার বক্স
দুইটি বাইনোকুলার
উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, এলাকায় নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দুইটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন