ইরানের ড্রোন হেডকোয়ার্টার লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।
আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ডজনখানেক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) একটি ড্রোন হেডকোয়ার্টারও ছিল। ওই স্থাপনাটি থেকে আগে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন পাঠানো হয়েছিল এবং আরও কিছু ড্রোন সেখান থেকে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হামলায় একাধিক ড্রোন সংরক্ষণাগার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
ইরানে ইসরায়েলের টানা ১০ দিনের হামলায় বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনাও রয়েছে। তেহরানজুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। তবে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান।
এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও লেবানন। এসব দেশ ইরানে হামলা না করলেও ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি ক্রমেই আরও বিপর্যয়কর হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের আঁচ লাগতে শুরু করেছে পুরো ইউরোপে। বাড়ছে জ্বালানির দাম, সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং ইউরোপ জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন