সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দিনাজপুরে যে খাল কেটেছিলেন, পাঁচ দশক পর সেই সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করলেন তারই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাবার মতোই নিজে কোদাল দিয়ে কেটে সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন তিনি।
পোলো শার্ট, জিন্স, কেডস পরিহিত তারেক রহমানের মাথায় ছিল লাল-সবুজের ক্যাপ, যাতে লেখা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়াসহ সারাদেশে ৫৪ জেলার খাল খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন সরকারপ্রধান।
সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে।
এ খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “এই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে এই এলাকার সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করছেন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন জনসাধারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক্ষায় আছে।”
তিনি জানান, “এই খালটি পুরোটা সম্পন্ন করা গেলে এই অঞ্চলের প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবে। শুধু তাই নয়, সাহাপাড়া খাল খনন হলে এই এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।”
জাহিদ হোসেন বলেন, “বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার—সারাদেশে খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে; যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে শুরু করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সারাদেশের ৫৪ জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন।”
রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা আসলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি-ঘরে পানি ওঠে, নিচু এলাকার ফসলি জমি ডুবে যায়। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের। সাহাপাড়া খালটি খনন হলে আমাদের উপকার হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর আসেন। সেখান থেকে সড়কপথে বলরামপুরের অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তার গাড়ির বহর আসার পথে সড়কের দুই ধারে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাহাপাড়া খাল খনন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নালা, জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় ‘বেতনা নদী’ পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেছিলেন জিয়াউর রহমান।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সমন্বয়ে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। প্রতি কিলোমিটার খনন ও পুনঃখননে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে বর্তমানে নৌপথ কমে হয়েছে চার হাজার কিলোমিটার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের নৌপথ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন