ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
গণবার্তা

দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

দীর্ঘ ৯ মাস পর দেশের বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ২টা থেকে এ ইউনিটে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।

গ্যাস সংকটের জন্য ২০২৫ সালের ১৪ জুন ৭নং ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্যাস পুনরায় সরবরাহ পাওয়ায় শুক্রবার রাত থেকেই এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

অন্যান্য ইউনিটের অবস্থা

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে—

  • ২০২৫ সালের ১৩ জুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪ নম্বর ইউনিট

  • ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট

  • ১৪ জুন থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিট—উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছিল। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিকল্পভাবে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিল।

আগের ইউনিটগুলোর অবস্থা

২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে এ ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

অপরদিকে, ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি রাশিয়া টেকনোপ্রম এক্সপার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করলে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যাত্রা শুরু করা হয়। পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন অপর ২ নম্বর ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। এ দুটি ইউনিটে বার বার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ ৯ বছর যাবত এ দুটি ইউনিটেরও উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন করে অপর নতুন ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চলমান মেরামত ও সম্ভাবনা

প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩নং ইউনিটের টারবাইনের রোটারের ব্লেডে ত্রুটির কারণে সেটার মেরামতের কাজ চলছে। অপর ৪ ও ৫ নং ইউনিট দুটি প্রস্তুত আছে, পুরো গ্যাস পেলেই এ দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু হবে।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং বিদ্যমান লোডশেডিং সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image
দীর্ঘ ৯ মাস পর দেশের বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭নং ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ২টা থেকে এ ইউনিটে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।গ্যাস সংকটের জন্য ২০২৫ সালের ১৪ জুন ৭নং ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্যাস পুনরায় সরবরাহ পাওয়ায় শুক্রবার রাত থেকেই এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।অন্যান্য ইউনিটের অবস্থাবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে—২০২৫ সালের ১৩ জুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪ নম্বর ইউনিট৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট১৪ জুন থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিট—উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।সূত্র জানায়, সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছিল। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিকল্পভাবে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিল।আগের ইউনিটগুলোর অবস্থা২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে এ ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।অপরদিকে, ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি রাশিয়া টেকনোপ্রম এক্সপার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করলে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যাত্রা শুরু করা হয়। পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন অপর ২ নম্বর ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। এ দুটি ইউনিটে বার বার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ ৯ বছর যাবত এ দুটি ইউনিটেরও উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন করে অপর নতুন ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।চলমান মেরামত ও সম্ভাবনাপ্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩নং ইউনিটের টারবাইনের রোটারের ব্লেডে ত্রুটির কারণে সেটার মেরামতের কাজ চলছে। অপর ৪ ও ৫ নং ইউনিট দুটি প্রস্তুত আছে, পুরো গ্যাস পেলেই এ দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু হবে।ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং বিদ্যমান লোডশেডিং সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা