ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

কলম্বিয়ায় সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৬৬

কলম্বিয়ায় সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৬৬

কলম্বিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে কলম্বিয়ার পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা সদস্য, ছয়জন বিমান বাহিনীর সদস্য ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

লেগুইজামো শহরের মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা এ পর্যন্ত ৬৬ জন নিহতের খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।” দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে সেনা ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১২৫ জন যাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, সোমবার ভোরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তসংলগ্ন এই এলাকা থেকে উড্ডয়নের পরপরই প্লেনটি জঙ্গলের ভেতরে পড়ে যায় ও সঙ্গে সঙ্গেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।

এর আগে স্থানীয় সরকার সচিব কার্লোস আরসিএন টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

যে সীমান্ত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছিল। কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সেনাবাহিনী মাদক চোরাচালানকারী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

সামরিক কর্মকর্তা কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা রুয়েদা জানান, উড়োজাহাজটিতে ১১৪ জন সেনা ও ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে কাছাকাছি একটি আমাজন ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিলেন।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এখনই দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা এনে দিক।”

তিনি আরও জানান, উড়োজাহাজটি কোনো প্রকার হামলার শিকার হয়নি এবং সেটির চালকরা যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিলেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন ও দেশের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তবে তিনি সরাসরি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে উড়োজাহাজটির অবস্থার কোনো সম্পর্ক টানেননি।

চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ এই সামরিক উড়োজাহাজ মার্কিন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধযান নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি। অস্থায়ী রানওয়ে থেকেও পরিচালনার সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


কলম্বিয়ায় সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৬৬

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলম্বিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে কলম্বিয়ার পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা সদস্য, ছয়জন বিমান বাহিনীর সদস্য ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।লেগুইজামো শহরের মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা এ পর্যন্ত ৬৬ জন নিহতের খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।” দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে সেনা ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১২৫ জন যাত্রী ছিলেন।জানা গেছে, সোমবার ভোরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তসংলগ্ন এই এলাকা থেকে উড্ডয়নের পরপরই প্লেনটি জঙ্গলের ভেতরে পড়ে যায় ও সঙ্গে সঙ্গেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।এর আগে স্থানীয় সরকার সচিব কার্লোস আরসিএন টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসা ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।যে সীমান্ত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছিল। কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সেনাবাহিনী মাদক চোরাচালানকারী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।সামরিক কর্মকর্তা কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা রুয়েদা জানান, উড়োজাহাজটিতে ১১৪ জন সেনা ও ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে কাছাকাছি একটি আমাজন ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিলেন।দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এখনই দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা এনে দিক।”তিনি আরও জানান, উড়োজাহাজটি কোনো প্রকার হামলার শিকার হয়নি এবং সেটির চালকরা যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিলেন।কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন ও দেশের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তবে তিনি সরাসরি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে উড়োজাহাজটির অবস্থার কোনো সম্পর্ক টানেননি।চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ এই সামরিক উড়োজাহাজ মার্কিন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধযান নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি। অস্থায়ী রানওয়ে থেকেও পরিচালনার সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা