ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

ইরানের দাবি: পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস

ইরানের দাবি: পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র এ দাবি করেছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গভীর রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, “পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবকটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধ প্রসঙ্গে শেখারচি জোর দিয়ে বলেন, ওই যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক নীতিতে পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না। ইরানের আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, যদি কোনো দেশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না তা ধ্বংস হয় এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “বাস্তবে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বিজয় অর্জন ও শত্রুকে শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত আগ্রাসনকারীকে শাস্তি দেওয়া ও তাড়া করা কর্মসূচিতে থাকবে।”

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, এবং দেশগুলোকে আমাদের শর্ত সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

শেখারচি বলেন, “আমাদের সক্ষমতা প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে, এবং আমরা আমাদের সামরিক ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করছি, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।” তিনি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি মনে করে আমরা পিছিয়ে যাব, তবে তারা ভুল করছে। আমাদের সংকল্প আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “আমরা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি এবং কারও ওপর আমাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে যদি আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য বিদেশি শক্তিকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেন, তাহলে এর পরিণতি আপনাদেরই বহন করতে হবে।”

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এই দাবি ও হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর ইরানের এই চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ইরানের দাবি: পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র এ দাবি করেছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গভীর রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বলেন, “পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবকটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।২০২৫ সালের ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধ প্রসঙ্গে শেখারচি জোর দিয়ে বলেন, ওই যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক নীতিতে পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না। ইরানের আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, যদি কোনো দেশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না তা ধ্বংস হয় এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।”তিনি আরও বলেন, “বাস্তবে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বিজয় অর্জন ও শত্রুকে শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত আগ্রাসনকারীকে শাস্তি দেওয়া ও তাড়া করা কর্মসূচিতে থাকবে।”হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, এবং দেশগুলোকে আমাদের শর্ত সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।শেখারচি বলেন, “আমাদের সক্ষমতা প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে, এবং আমরা আমাদের সামরিক ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করছি, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।” তিনি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”তিনি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি মনে করে আমরা পিছিয়ে যাব, তবে তারা ভুল করছে। আমাদের সংকল্প আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “আমরা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি এবং কারও ওপর আমাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে যদি আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য বিদেশি শক্তিকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেন, তাহলে এর পরিণতি আপনাদেরই বহন করতে হবে।”ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এই দাবি ও হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর ইরানের এই চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা